advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মৃত্যুহীন অনন্ত জীবনের স্বাক্ষর বয়ে চলার দিন

চপল মাহমুদ
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩৪ এএম
advertisement

‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যামসমান/মেঘবরণ তুঝ, মেঘজটাজুট, রক্ত কমল কর, রক্ত অধরপুট, তাপ-বিমোচন করুণ কোর তব মৃত্যু-অমৃত করে দান।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক এভাবেই মৃত্যুবন্দনা করেছেন। মহাকালের চেনা পথ ধরে প্রতিবছর আসে ২২ শ্রাবণ। যেন আজও এই দিনটি মৃত্যুহীন অনন্ত জীবনের স্বাক্ষর বয়ে চলেছে। সাহিত্য-সংগীতের বিশাল একটি অংশে যে পরমার্থের সন্ধান করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তার সঙ্গে তিনি আজও বিদ্যমান। আজ ২২ শ্রাবণ, শনিবার বাঙালি সংস্কৃতির কবি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮১তম প্রয়াণবার্ষিকী। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে জীবনপ্রদীপ নির্বাপিত হয়েছিল তার।

advertisement

তার প্রয়াণ দিবসে জাতি গভীর শ্রদ্ধায় কবিকে স্মরণ করবে। কবিগুরুর প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। অজস্র রচনায় বর্ষাকে তিনি অনিন্দ্যসৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বৃষ্টির অজস্র জলধারায় পরিপুষ্ট তার বিচিত্র রচনাসম্ভার। এই বর্ষা ঋতুতেই চিরবিদায় নেন তিনি। আধুনিক বাঙালি রুচির নির্মাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।

প্রায় একক প্রতিভায় বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ আসনে। কাব্য, সংগীত, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনিসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখা তার প্রতিভার স্পর্শে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছিল। বাঙালির হৃদয়ানুভূতি ও অভিব্যক্তির সার্থক প্রকাশ ঘটেছে তার বিপুল রচনায়। তার বৈচিত্র্যময় রচনাসম্ভার মহৎ মানবিক আবেদনের মহিমায় হয়ে উঠেছে কালজয়ী। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি গভীর আগ্রহে চিত্রকলা চর্চা শুরু করেন। তার এসব কাজ ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পকলায় ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে। সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি সমাজসংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, কৃষি উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মে নিজেকে জীবনব্যাপী সক্রিয় রেখে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি। তার কর্ম, চিন্তা বাঙালির সব আন্দোলন-সংগ্রাম ও অগ্রযাত্রায় অনন্ত অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে আছে। তার গান আমাদের জাতীয় সংগীত।

শারীরিকভাবে তিনি অনুপস্থিত হলেও দিনে দিনে বাঙালির মন-মানসে তার উপস্থিতি প্রতিনিয়তই স্পষ্ট, দীপ্তিমান ও অনিবার্য হয়ে উঠছে। বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। দেশজ শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশের লক্ষ্যে তিনি গড়ে তোলেন শান্তিনিকেতন ও বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি একজন সমাজসংস্কারকও ছিলেন। গ্রামীণ সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কৃষির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেন। বাংলায় আলু, ভুট্টা ইত্যাদি চাষের সূচনা ঘটে তারই উদ্যোগে। দরিদ্র কৃষকদের ঋণ দেওয়ার লক্ষ্যে নোবেল পুরস্কারের অর্থে কৃষি ব্যাংকের কাজ শুরু করেন তিনি। বঙ্গভঙ্গ রদ করার দাবিতে তিনি হিন্দু-মুসলমানদের নিয়ে রাখিবন্ধন কর্মসূচিতে রাজপথে নেমে আসেন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘নাইট’ উপাধি দিলেও ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে ব্রিটিশ বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

কর্মসূচি : বাইশে শ্রাবণ উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি আয়োজন করেছে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের।

‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ইংরেজি লেখা : পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক বক্তৃতা করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক ফকরুল আলম। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে একাডেমির আয়োজনে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ছায়ানট আয়োজন করবে বিশেষ অনুষ্ঠানের। এ ছাড়াও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল।

advertisement