advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

স্ত্রী-কন্যা হত্যায় মৃত্যুদ- ১২ বছর পর গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩৪ এএম
advertisement

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-ে দ-িত হন মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের জাকির হোসেন (৪৭)। স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি ও ভাবির সঙ্গে পরকীয়ার জেরে ২০০৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ওই হত্যাকা- ঘটান তিনি। ওই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পর ২০১০ সালে জামিন পান জাকির। এর পর দীর্ঘ এক যুগ ছদ্মবেশে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন তিনি। এর মধ্যেই ফাঁসির দ- হয়। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভারের শাহীবাগ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব ৪-এর অধিনায়ক ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

advertisement

র‌্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, ২০০০ সালে জাকির দৌলতপুর থানার জিয়নপুরের একই গ্রামের নিপা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় অর্থ, গহনা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়। বিয়ের পর আরও যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন জাকির। এর মধ্যে তাদের ঘরে জ্যোতি নামে কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। মেয়ের বয়স যখন তিন বছর, তখন পুনরায় গর্ভধারণ করেন নিপা আক্তার। সে সময় তিনি জানতে পারেন নিজের বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে জাকিরের পরকীয়া চলছে। বিষয়টি ভাসুর জাহাঙ্গীরকে নিপা জানিয়ে দেন। এ নিয়ে মনোমালিন্য ও কলহ চরমে ওঠে। এর জেরে জাকির ঘুমন্ত নিপাকে হত্যা

করেন। ঘটনা দেখে ফেলায় জ্যোতিকেও হত্যা করেন। পরদিন নিহত নিপার বাবা আবু হানিফ দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।

ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত জাকিরকে মৃত্যুদ-, ভাবি তাহমিনা, জাকিরের ভাই জাহাঙ্গীর, বন্ধু আমিনুল, চাচাতো ভাই পারভেজ রানা মিলন, জাহাঙ্গীরের শ্যালক স্বপন ও হাসানকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেন।

দ- মাথায় নিয়ে জাকির ২০১৩ সালে আবারও বিয়ে করে সাভারের জিনজিরায় বসবাস শুরু করেন। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি চট্টগ্রাম, ঢাকার আরামবাগ, ফকিরাপুল, হাজারীবাগ, খিলগাঁও ও সাভার এলাকায় থেকেছেন। প্রতিনিয়ত করেছেন পেশা পরিবর্তন। কখনো স্পাইরাল বাইন্ডিং, গার্মেন্টস ও ঝুটের ব্যবসা করেছেন। কখনো বাউলের ছদ্মবেশে জীবিকা নির্বাহ ও আত্মগোপনে থেকেছেন।

advertisement