advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মরুর খেজুর চাষে কোটিপতি বাদল

আবুল হাসান, গাজীপুর
৬ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৬ আগস্ট ২০২২ ১২:৩৪ এএম
advertisement

দেশে খেজুরের চাহিদার প্রায় শতভাগই আসে বাইরে থেকে। কিন্তু বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও উন্নত জাতের খেজুর চাষ সম্ভব। আর সেটি এরই মধ্যে করে দেখিয়েছেন দেশের কয়েক সফল চাষি। তাদের একজন গাজীপুরের নজরুল ইসলাম বাদল (৩০)। গণিতে উচ্চশিক্ষা নিয়েও পেশা হিসেবে কৃষি বেছে নিয়ে এখন তিনি কোটিপতি।

advertisement

বাদলের বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের আলিমপাড়া এলাকায়। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান খান। অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় এই চাষির কাছ থেকে আশপাশের জেলার যুবকরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন খেজুর চাষে। কৃষক বাদলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে উচ্চশিক্ষা শেষ করেন। এরপর এনজিওসহ কয়েকটি টেলিকমিউনিকেশন িেকাম্পানিতে চাকরি করেন ২০১৫ সাল পর্যন্ত। কিন্তু পরে তিনি সব বাদ দিয়ে বাবার সঙ্গে কৃষিকাজে যোগ দেন। দেশ-বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজদের জমিতে ‘সৌদি ডেট পাম ট্রিস ইন বাংলাদেশ’ নামে খেজুরের বাগান গড়ে তোলেন। খেজুর চাষের পাশাপাশি খেজুর চারার নার্সারিও গড়ে তোলেন তিনি।

বাদল জানান, বাংলাদেশের মাটিতে খেজুরের ফলন হবে কিনা, তা নিয়ে তিনি অনেক চিন্তায় ছিলেন। তার পরও এক প্রবাসী বন্ধুর সহযোগিতায় বিশ্বের ৬টি দেশ থেকে বিভিন্ন জাতের খেজুরের বীজ ও

চারা সংগ্রহ করেন তিনি। ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথমে ১৮টি চারা রোপণ করে মরুর খেজুরের চাষ শুরু করেন। প্রথমে ৭০ শতক জমিতে সৌদি আরবের খেজুরের জাত নিয়ে বাগান শুরু করেন। ২০১৭ সালে প্রথম তার বাগানের খেজুর গাছে ফলন আসতে শুরু করে। খেজুরের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে নার্সারিও গড়ে তোলেন। সেই বছরেই ৬২ লাখ টাকার চারা বিক্রি করেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। বর্তমানে তার বাগানে ও নার্সারিতে ১৬ প্রজাতির খেজুর গাছ রয়েছে। তার পরও মানুষের ব্যাপক চাহিদার জোগান দিতে তিনি আরও ১৪ জাতের চারা বাইরে থেকে এনেছেন। বর্তমানে নার্সারিসহ তার খেজুর বাগানটি বেড়ে সাড়ে ৭ বিঘা হয়েছে। বাগান পরিচর্যা ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রতিমাসে তার ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়। এ বছরও বাগানে অনেক খেজুর ধরেছে। এক-একটি খেজুরের বাঁধার ওজন প্রায় ২৫ কেজি।

বাদলের সংগ্রহে থাকা খেজুরের জাতের মধ্যে রয়েছে আজওয়া, মরিয়ম, আম্বার, খুনিজি, হেলালি, ম্যাডজেলি, বারহি, খালাস, ওমানি, সুক্কারি, সাফাওয়ি ইত্যাদি।

চারা সংগ্রহের প্রক্রিয়া

টিসু, কলম (সাকার) ও সরাসরি বীজ থেকে চারা উৎপাদিত হয়। টিস্যু ও কলম চারা থেকে ১ থেকে ২ বছরে ফলন পাওয়া যায়। একটি টিস্যু চারা ৮ থেকে ১০ হাজার, কলম চারা ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং বীজের চারা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হয়।

খেজুরের ফলন

একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছে ৮ থেকে ১২টি বাঁধি ধরে। প্রতি বাঁধিতে ২৫ থেকে ৩০ কেজি করে খেজুর হয়। তা ছাড়া বীজ থেকে উৎপাদিত চারায় ফলন আসতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ বছর। বীজ থেকে উৎপাদিত চারার দাম তুলানামূলক কম। এখানে চারা ছাড়াও খেজুরও করা হয়।

বাদলের চারায় অন্যরাও সফল

ময়মনসিংহের ভালুকার পাঁচগাঁও এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক বিল্লাল হোসেন জানান, ২০১৯ সালে তিনি বাদলের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বারহী জাতের একটি এবং ৫০ হাজার টাকায় মরিয়ম জাতের একটি খেজুর গাছের সাকার কলমের চারা কেনেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাছে ফুল আসে, ফল ধরে মার্চে। মরিয়মের জাতটি বারোমাসি। তিনি বাদলের কাছ থেকে আবার ৭৫ হাজার টাকায় একটি হেলালী, একটি আম্বার ও একটি খুদরি জাতের সাকারের কলম চারা কিনেছেন।

গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি, পিরুজালী গ্রামে প্রায় তিন বিঘা জমিতে সফলভাবে সৌদির খেজুর চাষ করছেন বাদল নামের এক যুবক। বাংলাদেশে সৌদি আরবের খেজুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য। এ জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।

advertisement