advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

জেন্ডার প্রেক্ষিতে বঙ্গমাতার জীবনদর্শন

সেলিনা হোসেন
৮ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৮ আগস্ট ২০২২ ০২:৪৬ এএম
advertisement

জেন্ডার শব্দটি বাংলা ভাষায় এখন আর নতুন শব্দ নয়। কারণ কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে এই তাত্ত্বিক ধারণার পাঠদান শুরু হয়েছে। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ‘উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিস বিভাগ’ স্থাপিত হয় ২০০০ সালে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার আধিপত্য থেকে সমাজকে সমতার অবস্থানে বিন্যস্ত করার জন্য জেন্ডার ধারণার তাত্ত্বিক পাঠদান সূচিত হয়। বিশ^জুড়ে জেন্ডার ধারণা বিস্তৃত পরিসর অর্জন করেছে শিক্ষাক্ষেত্রে বিষয়টিকে সংযুক্ত করার কারণে।

advertisement

এখন থেকে দু’শ বছরের বেশি সময় আগে মেয়েদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা ছিল সামাজিক রীতি। এর পক্ষে-বিপক্ষে নানা বিতর্ক হয়েছিল সে সময়ে। প-িত মদনমোহন তর্কালঙ্কার লিখেছিলেন, ‘বিশ^পিতা স্ত্রী ও পুরুষের কেবল আকারগত কিঞ্চিত ভেদ সংস্থাপন করিয়াছেন মাত্র। মানসিক শক্তি বিষয়ে কিছুই ন্যূনাধিক্য স্থাপন করেন নাই। অতএব বালকেরা যেরূপ শিখিতে পারে, বালিকারা সেরূপ কেন না পারিবেক।’ এখন থেকে পাঁচশ বছর আগে আমাদের বর্তমান কিশোরগঞ্জের সাহিত্যিক চন্দ্রাবতী সমাজের প্রচলিত ‘রামায়ণ’-এর বিরুদ্ধে নারীর বোধের চেতনায় রামায়ণ রচনা করেছিলেন। তিনি তার ‘রামায়ণ’-এ সীতাকে অগ্নিপরীক্ষায় ঢোকানোর পরে লিখেছিলেন,

advertisement 4

‘পরের কথা কানে লইলে গো নিজের সর্বনাশ/চন্দ্রাবতী কহে রামের গো বুদ্ধি হইল নাশ।’

হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা রামকে অবতার বলে গ্রহণ করেন। চন্দ্রাবতী রামকে শুধুই অবতার হিসেবে দেখেননি। দশ মাস রাবণের বাড়িতে থাকার কারণে সীতার সতীত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুললে তিনি রামের বুদ্ধি-বিভ্রম ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন। এখানেই জেন্ডার তাত্ত্বিক ধারণার দীক্ষা। সচেতনভাবে নিজ চেতনায় সমাজকে মূল্যায়ন করার জায়গা তৈরি না করলে সমতার অধিকারকে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। শিক্ষিত হয় না গণমানুষ। পরিবর্তন হয় না নারীকে অবদমনের ক্ষেত্র।

আজ একজন নারী খনার কথা উল্লেখ না করলেই নয়। তিনি কৃষিচাষে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে কৃষকের কাছে অবিস্মরণীয় মানবী হয়ে উঠেছিলেন।

এর পর আমরা স্মরণ করি মুসলিম মেয়েদের শিক্ষার ব্যবস্থায় অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়াকে। তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে মেয়েদের স্কুলে এনে রক্ষণশীলতার গ-ি ভেঙেছিলেন। সমাজকে জেন্ডার সমতার মুখোমুখি করেছিলেন।

এভাবে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নারী তার জ্ঞান দিয়ে পরিচর্যা করেছে সমাজকে। এগিয়েছে সমাজের স্রোত। আজকে এই ধারাবাহিকতায় স্মরণ করি একজন অসাধারণ প্রজ্ঞার মানুষ বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবকে। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে একজন সাহসী নারী। দুর্বার সাহসে ইতিহাসের ক্রান্তিলগ্নে দিয়েছিলেন দূরদর্শী চিন্তার বার্তা। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ ফেলার সাহসী বার্তা তাকে ইতিহাসের মানুষ করেছে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, জেন্ডার সমতার ইতিহাসে তিনি আমাদের অনুকরণীয় দৃষ্টান্তের মানুষ। ব্যক্তিজীবন থেকে রাজনৈতিক জ্ঞানের জায়গায় তিনি জেন্ডার সমতার বলয় তৈরি করেছিলেন স্বামী জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে দাঁড়িয়ে। দুজনের পরিশীলিত জীবনের নানা সূত্রে কোথাও পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্যের জায়গা তৈরি হয়নি। বাংলার জনজীবনে এ এক দিগন্ত বিথারী উদ্ভাসন। জেন্ডার সমতার আলোয় ঝরেছে টুঙ্গিপাড়ার বাড়ির প্রাঙ্গণে অজস্র শিউলী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি রচনা করেন জেলখানায় রাজবন্দি থাকার সময়। তিনি এই বইয়ের প্রথম পৃষ্ঠার দ্বিতীয় লাইনে স্ত্রী ফজিলাতুন নেছার কথা লিখেছেন : ‘আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, বসেই তো আছো, লেখ তোমার জীবনের কাহিনি।’ একই পৃষ্ঠার এই অংশ শেষ করেছেন এভাবে : ‘আমার স্ত্রী যার ডাকনাম রেণু আমাকে কয়েকটা খাতাও কিনে জেলগেটে জমা দিয়ে গিয়েছিল। জেল কর্তৃপক্ষ যথারীতি পরীক্ষা করে খাতা কয়টা আমাকে দিয়েছেন। রেণু আরও একদিন জেলগেটে বসে আমাকে অনুরোধ করেছিল। তাই আজ লিখতে শুরু করলাম।’

জেন্ডার সমতার সূত্র থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টই বোঝা যায় যে, এখানে পারিবারিক সম্পর্কের ঊর্র্ধ্বে দেশ-জাতির জন্য সময়ের ইতিহাস রচনা দুজনেই গভীরভাবে ভেবেছেন। রাজনীতির কারণে কারাবন্দি স্বামীকে অনুপ্রেরণা দিয়ে উৎসাহিত করেছেন সময়ের ছবি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখার জন্য। সম্পর্কের এই গভীর বোঝাপড়া জেন্ডার সমতার অনন্য উদাহরণ। গ্রন্থের শেষে টিকা অংশে উল্লেখ করা হয়েছে : ‘পা-ুুলিপির জন্য ব্যবহৃত খাতাগুলি ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব প্রিজন্স, ঢাকা ডিভিশন, সেন্ট্রাল জেল, ঢাকা, ৯ই জুন ১৯৬৭ ও ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৬৭ তারিখে পরীক্ষা করেন। অপরদিকে লেখককে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় ১৭ জানুয়ারি ১৯৬৮ থেকে ঢাকা সেনানিবাসে আটক করা হয়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, লেখক তার এই আত্মজীবনীটি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১৯৬৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে রচনা শুরু করেন।’ বই থেকে পাওয়া এসব তথ্য জেন্ডার আলোকে বিশ্লেষিত হওয়ার দাবি রাখে। অন্যদিকে মনে হয় রেণুর তাগাদা ছাড়া এবং খাতাগুলো প্রদান করা ছাড়া ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থটি কি রচিত হতো? বঙ্গবন্ধু পুরুষতন্ত্রের আধিপত্যের চিন্তা থেকে রেণুকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আড়াল করতে পারতেন। কিন্তু করেননি। পারিবারিক জীবনের সমতা অনায়াস সত্যে তুলে ধরেছেন।

বইয়ের বিভিন্ন পৃষ্ঠায় তিনি রেণুর কথা বলেছেন সহযোগিতার সূত্র ধরে। পড়ালেখার সময় কলকাতায় থাকাকালে খরচের কথা বলতে গিয়ে বলেছেন : ‘আব্বা ছাড়াও মায়ের কাছ থেকেও আমি টাকা নিতে পারতাম। আর সময় সময় রেণুও আমাকে কিছু টাকা দিতে পারত। রেণু যা কিছু জোগাড় করত বাড়ি গেলে এবং দরকার হলে আমাকেই দিত। কোনোদিন আপত্তি করে নাই, নিজে মোটেই খরচ করত না। গ্রামের বাড়িতে থাকত, আমার জন্যই রাখত।’

আর এক জায়গায় নিজের অসুস্থতার প্রসঙ্গে লিখেছেন : ‘আমার জ¦র ভয়ানকভাবে বেড়ে গেছে। ... রেণু কয়েকদিন আমাকে খুব সেবা করল। যদিও আমাদের বিবাহ হয়েছে ছোটবেলায়। ১৯৪২ সালে আমাদের ফুলশয্যা হয়। জ¦র একটু ভালো হলো। কলকাতা যাব, পরীক্ষাও নিকটবর্তী।’

স্বামীর আধিপত্যের জায়গা থেকে এই পরিবারের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়নি। দুজনেই বোধ ও চেতনার জায়গা থেকে একজন খনা, একজন মদনমোহন তর্কালঙ্কার হয়ে উঠেছেন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে। জেন্ডার ডিসকোর্সে তাত্ত্বিক ধারণার ঊর্ধ্বে তারা সময়ের প্রেক্ষিতকে বুঝিয়েছিলেন যে, কীভাবে জীবনযাপনকে মানসম্পন্ন করা যায়। নারী-পুরুষের সম্পর্কের মর্যাদার জায়গা তৈরি হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার স্মৃতিচারণে বলেছেন : ‘আমার জীবনেও আমি দেখেছি যে, গুলির সামনে আমি এগিয়ে গেলেও কোনোদিন আমার স্ত্রী বাধা দেয় নাই। এমনো দেখেছি যে, অনেকবার আমার জীবনের ১০-১১ বছর আমি জেল খেটেছি। জীবনে কোনোদিন মুখ কালা কিংবা আমার ওপর প্রতিবাদ করে নাই। তাহলে বোধহয় জীবনে অনেক বাধা আমার আসত। অনেক সময় আমি দেখেছি যে, আমি যখন জেলে চলে গেছি আমি একআনা পয়সাও দিয়ে যেতে পারি নাই আমার ছেলেমেয়ের কাছে। আমার সংগ্রামে তার দান যথেষ্ট রয়েছে।’

পরিবারের আর একজন সদস্য ড. ওয়াজেদ মিয়া। তিনি আমাদের প্রধানমন্ত্রীর স্বামী। তার বইয়ের নাম ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’।

অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল সময়। পরিস্থিতি থমথমে। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলছে। ড. ওয়াজেদ মিয়া ২৩ মার্চের দুপুরের কথা লিখেছেন : ‘ওইদিন দুপুরে বঙ্গবন্ধু কারও সঙ্গে কথা না বলে গম্ভীরভাবে খাচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে শাশুড়ি বঙ্গবন্ধুকে বললেন, এতদিন ধরে যে আলাপ-আলোচনা করলে, তার ফলাফল কী হলো কিছু তো বলছ না। তবে বলে রাখি, তুমি যদি ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে সমঝোতা করো, তবে একদিকে ইয়াহিয়া খানের সামরিক বাহিনী সুবিধামতো সময়ে তোমাকে হত্যা করবে, অন্যদিকে এ দেশের জনগণও তোমার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হবে। এ কথা শুনে বঙ্গবন্ধু রাগান্বিত হয়ে শাশুড়িকে বলেন, আলোচনা এখনো চলছে, এই মুহূর্তে সবকিছু খুলে বলা সম্ভব না। এই পর্যায়ে শাশুড়ি রেগে গিয়ে নিজের খাবারে পানি ঢেলে দ্রুত ওপরতলায় চলে যান।’

এভাবে আমরা বুঝে যাই তিনি ইতিহাসের মানুষ। তিনি মানবচেতনার কণ্ঠস্বর। গণমানুষের পক্ষের শক্তি। ইতিহাসের প্রেক্ষাপটকে সঠিক অনুধাবনে নিজের করতলে বিস্তৃত রেখেছিলেন। তিনি জেন্ডার সমতার আলোকে রাজনীতির বিষয়গুলোর মোকাবিলা করেছেন।

একটি ঘটনা ৭ মার্চের বিকালের। সেদিন ৩২ নম্বর বাড়িতে নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল। প্রত্যেকেই সেদিনের ভাষণে কী বলা হবে তার নানা মতামত দিচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু দোতলায় উঠে এলে রেণু বললেন, অনেকে তো অনেক কথা বলছেন। তুমি নিজে ঠিক করো তুমি কী বলবে। তোমার সামনে লাখ লাখ মানুষ লাঠি-বৈঠা নিয়ে বসে আছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর রাইফেলের নল তোমার সামনে। তোমার নিজেকে ভেবে কথা বলতে হবে। তুমি পনেরো মিনিট শুয়ে থেকে চিন্তা করো। বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে যাওয়ার আগে পনেরো মিনিট চুপচাপ শুয়েছিলেন। তার পর একটি অসাধারণ ভাষণ দিয়েছিলেন যেটি ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ^ ঐতিহ্যিক দলিলে স্বীকৃত হয়েছে। অসাধারণ ভাষণটি বিশ^ জয় করেছে।

এ বই এ কথাই প্রমাণ করে যে, ষাটের দশকের রাজনীতির গবেষণায় ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ভূমিকা উল্লেখ না করলে ইতিহাসের সবটুকু সত্য বিবৃত করা হবে না। সময়ের রাজনীতির ইতিহাসে তিনি একজন ব্যতিক্রমী মানুষ। তার নাম ইতিহাসে অপরিহার্য। প্রয়োজন জেন্ডার আলোকে তার দর্শনের মূল্যায়ন করে এই প্রজন্মের মাঝে সঞ্চারিত করা। জেন্ডার সমতার আলোকে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখানে উপস্থাপন করা জরুরি। বিশ^জুড়ে যুদ্ধকালীন নারীদের অবদান নানাভাবে মূল্যায়িত হয়। তারা যোদ্ধা হিসেবে যেমন মূল্যায়িত হন, তেমনি যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে সমাজের কাছে হেয়ও হন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধা অলকা ঘোষের সনদপত্রটি দেখার সুযোগ হয় আমার। এই সনদপত্রে ‘বীর ও বীরাঙ্গনা সৈনিক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু সরকার প্রদত্ত এই সনদে নারী-পুরুষের অবদানকে সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এখানে জেন্ডার সমতার কোনো ব্যতিক্রম ঘটানো হয়নি। নারী-পুরুষ যোদ্ধা হিসেবে সমান মর্যাদা পেয়েছে। কিন্তু সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের এই বিশাল মূল্যায়নকে সঠিক দৃষ্টিতে দেখেনি। ইতিহাসের মানুষ বেগম ফজিলাতুন নেছা গভীর সমতায় যুদ্ধের অবদানের স্বীকৃতিতে নারীদের বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের নানা ঘটনায় দেখা যায় নির্যাতিত নারীর অনেকের বিয়ে আয়োজনও করেছিলেন। বিয়ের সময় নিজের গলার সোনার চেন খুলে তাদের গলায় পরিয়ে দিয়েছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ক্রান্তিকালেও তিনি নিজেকে নারী-পুরুষের সমতার জায়গায় মহীয়ান রেখেছিলেন। এখানেও তার ভূমিকা জেন্ডার সমতার আলোকে উদ্ভাসিত। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে তার কোনো ভুল পদক্ষেপ নেই।

এভাবে বিশ্লেষণ করে এগোলে আরও নানা প্রসঙ্গ সামনে আসবে। তারা আপন আলোয় জেন্ডার তত্ত্বকে নিজেদের জীবনে বিস্তার ঘটিয়েছিলেন। বঙ্গমাতার এই দূরদর্শী চেতনাবোধ সমাজ আকাক্সক্ষার স্বপ্ন পূরণ ঘটায়। এই প্রজন্ম তার কর্মযোগ থেকে চিন্তার আলো দেখে নেবে। দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে সঠিক পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার দিকনির্দেশনা কীভাবে সাহসের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হয় সেটাও শিখবে। জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের এই জীবন-পরিচর্যা একটি বড় উদাহরণ হিসেবে উজ্জ্বল। তিনি আমাদের এই সময়ে খনা, এই সময়ের বেগম রোকেয়া, এই সময়ের চন্দ্রাবতী। তিনি ইতিহাসের মানুষ। জেন্ডার সমতার পূর্ণতার জীবন বৈভবের দিশারি।

সেলিনা হোসেন : কথাসাহিত্যিক

advertisement