advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফেসবুকজুড়ে ‘হোক প্রতিবাদ’

শিমুল আহমেদ
১১ আগস্ট ২০২২ ০১:৩৭ পিএম | আপডেট: ১১ আগস্ট ২০২২ ০৫:০৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
advertisement

মত প্রকাশ বা যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো এখন বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। প্রযুক্তির সঙ্গে পা মিলিয়ে এদেশের মানুষও এগিয়ে যাচ্ছে। আর তারা সানন্দে গ্রহণ করে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে। বাংলাদেশে জনপ্রিয় মাধ্যমগুলোর একটি ফেসবুক, যা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

ক’দিন আগে শোবিজ অঙ্গনের বেশ ক’জন তারকা শিল্পী-নির্মাতা ও কলাকুশলিরা ‘পাওনা টাকা’ না পাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ করেন এই মাধ্যমে। এর মধ্যে আবার দেশের জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আওয়াজ তুলেছেন তার নতুন সিনেমা ‘শনিবার বিকেল’-্এর সেন্সর প্রসঙ্গে। যা নিয়ে ইতোমধ্যেই তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বরাবর খোলা চিঠি দিয়েছে এর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া।

advertisement 3

সবার এক কথা- কোনো ‘অদৃশ্য’ শক্তির কারণে বাংলাদেশে এখনো সিনেমাটি মুক্তি পায়নি। এবার সেই পালে হাওয়া দিলো দেশের বেশ ক’জন শিল্পী-নির্মাতা। শুধু ফারুকীর ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাই নয়, সেন্সরে আটকে থাকা বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সবগুলো সিনেমা নিয়েই ফেসবুক জুড়ে চলছে ‘হোক প্রতিবাদ’। অথচ ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা নিয়ে ভারতে ‘ফারাজ’ নামে সিনেমা নির্মাণ করেছেন বলিউডের খ্যাতিমান নির্মাতা হংসল মেহতা। এরই মধ্যে ‘শনিবার বিকেল’ সিনেমাটি মুক্তির দাবিতে ফেসবুকে একটি গ্রুপও খোলা হয়েছে।

advertisement 4

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান কথা বলেছেন ‘শনিবার বিকেল’ নিয়ে। তার ভাষ্য, ‘পৃথিবীর নানা দেশে যখন সেন্সর বোর্ড নামের বালাইটা উঠে যাচ্ছে, আমাদের দেশে সেটা তখন ফাঁসির রজ্জুর মতো চলচ্চিত্রের গলায় চেপে বসছে। এর সর্বশেষ শিকার এখন মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “শনিবার বিকেল”। কোনো চলচ্চিত্রের কাহিনী কী হবে, তারও কি এখন প্রেসক্রিপশন নিয়ে আসতে হবে? চলচ্চিত্রের বিষয় আকাশের তলায় মাটির পৃথিবীর যেকোনো কিছু। চূড়ান্ত কল্পনা, নিরেট বাস্তব, বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত কল্পনা।

“শনিবারের বিকেলে” ছবিতে হোলি আর্টিজানের শোচনীয় ঘটনাটির ছায়া আছে বলে? আসলেই আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকেও, তাহলেই বা ছবিটা আটকে দেওয়ার যুক্তি কী? হোলি আর্টিজান ঘটেনি? আমাদের মন থেকে ধুয়ে মুছে গেছে? সত্যি বলতে কী, এই ঘটনা কখনোই আমাদের মন থেকে মুছে যেতে পারে না। মুছে যেতে দেওয়া যায়ও না। যে ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা মোটেও চাই না, আমাদের ছেলেমেয়েদের সামনে থেকে যে পথ চিরকালের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখতে চাই, হোলি আর্টিজানের ঘটনা তার জোরালো সতর্কঘণ্টা হিসেবে মন থেকে মনে বাজিয়ে যেতে হবে। ঘণ্টা বাজিয়ে ঘুম থেকে আমাদের মনটাকে জাগিয়ে তোলা তো চলচ্চিত্রেরই একটা কাজ। আমরা চলচ্চিত্রের মুক্তি চাই, সব শিল্পের মুক্তি চাই। কারণ আমরা মানুষের মুক্তি চাই।’

জয়ার এই পোস্টে মন্তব্য করেছেন অভিনেতা হাসান মাসুদ। লিখেছেন ‘সেন্সর বোর্ড নিপাত যাক’।

সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা অন্যান্য সিনেমাগুলোর প্রসঙ্গ টেনে নির্মাতা মিজানুর রহমান মিজান এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘হায়রে চলচ্চিত্রের মানুষ! “শনিবার বিকেল” মুক্তির জন্য সিনেমার অনেক জ্ঞানী-গুণী মানুষ প্রতিবাদী পোস্ট দিলেও “রানা প্লাজা” নিয়ে সবাই নিশ্চুপ। কেউ কোনো কথাই বলে নাই। প্রতিবাদ যদি করতেই হয় তাহলে সেন্সরে আটকে যাওয়া সকল সিনেমা নিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। এক পাক্ষিক প্রতিবাদ হবে কেন? “শনিবার বিকেল” সিনেমা “রানা প্লাজা” কি সিনেমা না? কই তখন তো কেউ প্রতিবাদ করলেন না ভাই? এই বঙ্গদেশে যদি “শনিবার বিকেল” মুক্তি দেওয়া হয়, তাইলে “রানা প্লাজা”র মতো আরও অনেক সিনেমা আছে সেগুলোও মুক্তি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’

তার এই মন্তব্যের ঘরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী নির্মাতা রিয়াজুল রিজু লিখেছেন, ‘সবারটা নিয়েই হোক সমস্যা কোথায়? সমস্যা হচ্ছে প্রতিবাদী হতে বিপ্লবী হতে সৎ সাহস লাগে এবং সেটারই অভাব।’

কথা বলেছেন খিজির হায়াত খান। তার ভাষ্য, ‘একতাই বল, নিজেদের মধ্যে বিবেধ আর না করি আমরা। সকল আটকে থাকা সিনেমা আলোর মুখ দেখুক।’ এ ছাড়াও সেন্সর বোর্ডে আটকে থাকা সিনেমাগুলো নিয়ে ফেসবুক জুড়ে অনেকেই কথা বলেছেন। আর সবাই হ্যাশট্যাগ দিয়ে লিখেছেন ‘হোক প্রতিবাদ’।

advertisement