advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

মানবাধিকার ইস্যুতে জিজ্ঞাসার জবাব দিতে প্রস্তুতি ঢাকার

মিশেল ব্যাচেলেট আসছেন আজ

আরিফুজ্জামান মামুন
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১০:৫৬ এএম
advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ সফরে আজ রবিবার ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার প্রধান হিসেবে এটিই তার প্রথম বাংলাদেশ সফর। চার দিনের এই সফরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওঠা প্রশ্ন ও তা সমাধানে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন তিনি। এ ছাড়া এসব বৈঠকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আান্তর্জাতিক অঙ্গনে ওঠা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সব ধরনের অভিযোগের উত্তর দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা এ দেশে কেমন আছে সে বিষয়েও আলোচনা হবে। ব্যাচেলেটের সফর সূচিতে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনেরও কথাও রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের সঙ্গেও ব্যাচেলেট বৈঠক করবেন।

advertisement

জানা গেছে, সকালে ঢাকা পৌঁছে ব্যাচেলেট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাডিজে একটি সেমিনারে বক্তব্য দেবেন তিনি। একই সঙ্গে ঢাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোর মিশন প্রধান, এনজিও এবং এ খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ঢাকা ত্যাগের আগে তিনি দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও।

advertisement 4

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা যে মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিবেদন তৈরি করে তাতে জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা এবং এর প্রধানের বক্তব্যকে গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ব্যাচেলেটসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে অবধারিতভাবে প্রশ্ন উঠবে ধরে নিয়ে জবাবের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর নিয়ে গত ২১ জুলাই পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে বৈঠকও হয়েছে। সেখানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, বিরোধী মতের সমাবেশের অধিকার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর মতো বিষয়গুলোতে প্রশ্ন আসতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়। এর বিপরীত সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জোরালোভাবে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার যে মহান দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে তা জোরেশোরে সামনে নিয়ে আসা হবে ঢাকার তরফে। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটিও একটি অন্যতম কার্ড হিসেবে রাখছে বাংলাদেশ।

এদিকে মিশেল ব্যাচেলেটের সফরের সময় বাংলাদেশে গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলার দাবি জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ ১০টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। তবে ব্যাচেলেটের এ সফর ঘিরে সরকারের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টির উপলক্ষ হিসেবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কিছু দৃশ্যমান রাজনৈতিক প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ। গতকাল শনিবার ব্যাচেলেটের ঢাকা সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মানবাধিকার এজেন্ডার রাজনীতিকরণ কখনোই জনগণের মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষায় সাহায্য করে না। বরং আন্তরিক সংলাপ এবং সহযোগিতা হলো এর মূল পথ। সুতরাং সরকারের ওপর অযথা চাপ সৃষ্টির উপলক্ষ হিসেবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কিছু দৃশ্যমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের একটি দায়িত্বশীল এবং প্রতিক্রিয়াশীল সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ মানবাধিকারের প্রচার ও সুরক্ষার জন্য হাইকমিশনারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার জন্য উন্মুখ। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হাইকমিশনার অবগত রয়েছেন। বাংলাদেশ মানবাধিকারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের এ সফরে বাংলাদেশের জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশীয় আইনি কাঠামো আপডেট করা, সচেতনতা তৈরি করা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোকে সংবেদনশীল করার মাধ্যমে জনগণের মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারের জন্য সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হবে। ঢাকা দৃঢ়ভাবে আশা করে, জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার প্রধান স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করবেন কীভাবে মানবাধিকার ঠিক রেখে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা সামনে এগিয়ে নিচ্ছে।

চলমান মহামারী সত্ত্বেও দেশে কেউ অনাহারে মারা যায়নি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ গৃহহীন মানুষকে বাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য রাখে। সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় কোটির বেশি পরিবার খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ মানুষের জন্য খাদ্য, বাসস্থান ও উন্নয়নের অধিকার ইত্যাদি মৌলিক মানবাধিকারের প্রচার করছে। এ ছাড়া বাংলাদেশে শপিংমল, স্কুল বা উপাসনালয়ে কেউ নিহত হচ্ছে না। জাতীয় প্রেক্ষাপট, বিশেষ করে মহামারী ও অন্যান্য ক্রমবর্ধমান সংকটের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জনগণের শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষণাবেক্ষণ, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের মতো প্রতিবন্ধকতাগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে মিশেল ব্যাচেলেটের সফরটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ হবে।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থার প্রধানের এ সফরের গুরুত্ব রয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সদস্য হতে বাংলাদেশ প্রার্থী হয়েছে। এসব কারণে তার এ সফর নিয়ে অনেকের আগ্রহ আছে। কয়েকজন মন্ত্রী এবং এনজিও, সুশীল সমাজ ও শিক্ষকের সঙ্গে মিশেল ব্যাচেলেট কথা বলবেন। এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা সুস্থ সংস্কৃতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তার সঙ্গে আলোচনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয় আসতে পারে। তবে সরকারের অবস্থান হচ্ছে, কোনো আইনই নিখুঁত নয়। এ আইনের প্রয়োগ নিয়ে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এগুলো তুলে ধরা হবে। এর বাইরে বাংলাদেশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অনেক অভিযোগ দেখতে পায়। কিছু অভিযোগের হয়তো ভিত্তি আছে। অনেক অভিযোগের পর সত্যতা পাওয়া যায় না। জেনেভা জাতিসংঘ দপ্তর থেকে রেপোর্টিয়াররাও অনেক দেশ সফর করে থাকেন। তারা বিভিন্ন দেশে যখন যান, যা দেখেন তার ভিত্তিতে বিভিন্ন সুপারিশ করেন। যেমন কোনো দেশ কাউন্সিলের ইউপিআরের সময় দেওয়া সুপারিশ কতটা পালন করল, ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তারা মত দিয়ে থাকেন।

 

advertisement