advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
তিন মাসে প্রায় ৭ লাখ টন জ্বালানি তেল চায় পিডিবি

ডিজেলের চাহিদা তিন লাখ ৯১ হাজার টন ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দুই লাখ ৯০ হাজার টন

লুৎফর রহমান কাকন
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১০:০১ এএম
পুরোনো ছবি
advertisement

বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেল সাশ্রয়ে শিডিউল লোডশেডিং, এলাকাভিত্তিক শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে সরকার। এমনকি এ লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। শুধু লোডশেডিং বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ই নয়, বাজেট বরাদ্দ থেকেও কম খরচের নির্দেশনা রয়েছে। তবু আগামী তিন মাসের জন্য ছয় লাখ ৮২ হাজার টন জ্বালানি তেলের সরবরাহ চায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। আমদানিনির্ভর জ্বালানি তেলের চাহিদা কমানোর উদ্দেশ্য ডলারের রিজার্ভ সংরক্ষণ রাখা। সরকার ইতোমধ্যে ডিজেলভিত্তিক প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পরও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে লেখা পিডিবির এক চিঠি থেকে দেখা যায় আগস্ট থেকে অক্টোবরÑ এই তিন মাসের জন্য তিন লাখ ৯১ দশমিক

১ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দিয়েছে দুই লাখ ৯০ দশমিক ৯ হাজার টন।

advertisement

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ডলার মার্কেট চরম অস্থির অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে জ্বালানি তেল আমদানিতে এলসি খুলতে নানা সংকট তৈরি হচ্ছে। ডলার রেট বেশি হওয়ায় অনেক ব্যাংক সরকার নির্ধারিত ডলারের রেটে এলসি খুলতে টালবাহানা করছে।

advertisement 4

এদিকে, ডলার সাশ্রয়ে সরকার যেখানে আমদানিকে যতটা সম্ভব নিরুৎসাহিত করছে; সেখানে পিডিবি তিন মাসের ডিজেলের চাহিদা দিয়েছে তিন লাখ ৯১ দশমিক ১ হাজার টন। যার মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আগস্টের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১৫৪ দশমিক তিন হাজার টন। সেপ্টেম্বরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১৩৩ দশমিক ৯ হাজার টন। একই সঙ্গে অক্টোরে ডিজেলের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১০২ দশমিক ৯ হাজার টন। অর্থাৎÑ ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখার পরও তিন মাসের জন্য ডিজেলের চাহিদা দেওয়া হয়েছে তিন লাখ ৯১ দশমিক এক টন ।

অন্যদিকে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা দেওয়া হয়েছে আগস্টে ১০৭ দশমিক ৪ টন, সেপ্টেম্বরে দেওয়া হয়েছে ১০৩ দশমিক ৫ টন এবং অক্টোবরে দেওয়া হয়েছে ৮০ হাজার টন। তিন মাসের জন্য মোট ফার্নেস তেলের চাহিদা দেওয়া হয়েছে দুই লাখ ৯০ দশমিক ৯ হাজার টন।

পিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে, সেটি আগে থেকেই পিডিবিকে ভাবতে হয়। বিশেষ করে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, সেটি পরিকল্পনা করতে হয়। ফলে জ্বালানি তেল আমদানি করতে বিপিসিকে চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, আগের চেয়ে পিডিবির জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য পিডিবির ডিজেলের চাহিদা ছিল মাত্র ৯৯ দশমিক ২৮ হাজার টন। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা ছিল তিন লাখ ১৩ দশমিক দুই হাজার টন। এ ছাড়া গত বছর পিডিবি থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের যে চাহিদা নির্ধারণ করেছে, সেখানে দেখা যায় ডিজেলের চাহিদা ছিল ৭৮ দশমিক ৩১ হাজার টন। এ ছাড়া ফার্নেস অয়েলের চাহিদা নির্ধারণ করা ছিল দুই লাখ ৩১ দশমিক এক হাজার টন; কিন্তু পরে পিডিবি থেকে সংশোধিত চাহিদা দিয়ে চলতি আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ানো হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেসরকারি খাতের মালিকরা সবদিক দিয়ে ব্যবসা করে গেলেন। বেসরকারি খাতের মালিকরা জ্বালানি তেল আমদানি করলে সরাসরি ৯ শতাংশ ভ্যাট-ট্যাক্স মওকুফ পান; কিন্তু সেটি বিপিসি পায় না। অন্যদিকে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকে তখন বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা চান বিপিসির মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনা করতে। আবার যখন দাম কম থাকে তখন তারা নিজেরাই জ্বালানি তেল আমদানি করেন।

 

 

advertisement