advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

কুইক রেন্টালের নামে দেশে কুইক লুটপাট চলছে

বিদ্যুৎ খাতে ১২ দফা মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান অবস্থার জন্য সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, আত্মঘাতী চুক্তি ও অপরিণামদর্শী পরিকল্পনাকে দায়ী করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ১২টি কোম্পানি কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। এটি কুইক রেন্টালের নামে কুইক লুটপাট। যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব দুর্নীতির তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত রক্ষায় ১২ দফা ঘোষণাকালে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল শনিবার গুলশানে

বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল দফাগুলো তুলে ধরেন।

advertisement

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ব্যবস্থা জনস্বার্থবিরোধী ও রীতিমতো অপরাধ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিদ্যুতের চাহিদা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে চাহিদার অনেক বেশি পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে চুক্তি করে দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীদের অর্থ লুট করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাত্র ৪৩ শতাংশ ব্যবহার করা হয়। অবশিষ্ট ৫৭ শতাংশ অলস বিদ্যুৎ বসিয়ে রেখে কেন্দ্রের ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ না কিনে গত অর্থবছরে বিল পরিশোধ করা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা। আগামী ৪ বছরে আরও ১৩ হাজার মেগাওয়াটের কেন্দ্র উৎপাদনে এলে বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে। সব মিলিয়ে বিদ্যুৎ না কিনেও অতিরিক্ত টাকা পরিশোধের অঙ্ক অনেক গুণ বেড়ে যাবে।

advertisement 4

ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি বাবদ গত তিন অর্থবছরে ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়েছে জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, আদানি গ্রুপের ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির কথা রয়েছে। বাংলাদেশে যখন প্রায় ৬০ শতাংশ ওভার ক্যাপাসিটি রয়েছে, সে সময় ভারত থেকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ আমদানি সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আদানি গোড্ডা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির জন্য বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১১.০১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করবে। এই আমদানির ৪০ শতাংশ যায় ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধে। চুক্তির ২৫ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবে ওই গ্রুপকে এক লাখ কোটি টাকারও বেশি পরিশোধ করতে হবে; যা দিয়ে ৩টি পদ্মা সেতু, ৯টি কর্ণফুলী টানেল কিংবা ২টি মেট্রোরেল নির্মাণ করা যায়। সঞ্চালন লাইন নির্মাণ না করে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাওয়ায় যোগসাজশে অর্থ লুটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করেন মির্জা ফখরুল।

বিদ্যুতের জন্য ১২ দফা

বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে বিএনপি ঘোষিত ১২ দফা হচ্ছেÑ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনসহ এ সংক্রান্ত সব কালাকানুন, রেন্টাল/কুইক রেন্টাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বন্ধ/বাতিল করা হবে। স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পাদন ও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন অতি দ্রুত স্থাপন, বাপেক্স ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মাধ্যমে খনিজ ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে উপযুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বঙ্গোপসাগরে সম্ভাবনাময় গ্যাস/পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ উত্তোলনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে টেকসই ও নিরাপদ করতে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমিয়ে ক্রমান্বয়ে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর জ্বালানিনীতি গ্রহণ ও বিশেষ জোর দেওয়া হবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে।

বেজলোড পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে স্বল্পব্যয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করা হবে। বৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় মেরামতের মাধ্যমে উৎপাদন উপযোগী করে গড়ে তোলা হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক বিএনপির ভিশন ২০৩০-এ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেক্টর উন্নয়নে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

জনগণের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘তামাশা’

অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশকে ‘বেহেশত’ উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে ‘তামাশা’ করছেন বলে মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দেশের মানুষের যখন দুর্বিষহ জীবন যাচ্ছে, কষ্ট করছে সেই সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন যে, বেহেশতে আছে। আমি দুঃখিত ব্যক্তিগত পর্যায়ে কথা বলছি। ইদানীংকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেহারার মধ্যে ফুটে উঠেছে যে, তিনি স্ফীত হয়েছেন। বেশির ভাগ মন্ত্রীদের একই অবস্থা। এর কারণ, প্রচুর লুটপাট হচ্ছে। সেই লুটপাটের কারণে তারা জনগণের সঙ্গে পরিহাস, তামাশা শুরু করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ।

advertisement