advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

‘হকির এক সত্যি গপ্পো’

ক্রীড়া ডেস্ক
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

মেজর চাকলাদার (অব)

আবাহনী, মোহামেডান দল থাকতেও হকির নিয়ন্ত্রণ ছিল ওয়ারী ক্লাবের মমিন ভাই আর ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাবের আলমগীর আদেল ভাইয়ের হাতে। এ দলের মধ্যে ওয়ারী মাঝারি সারির আর ভিক্টোরিয়া ছিল একদম নিচে।

advertisement

যে খেলার কথা বলছি তা হলো ভিক্টোরিয়ার সাথে ড্র করে এক পয়েন্ট দিয়ে প্রথম বিভাগে ভিক্টোরিয়াকে রাখা। শক্তিশালী দল হলো তখন আবাহনী, সোনালি ব্যাংক। আমি খেলি সোনালি ব্যাংকে। মোহামেডান তখনো মাঝারি শক্তির।

advertisement 4

খেলার ফল গুরুত্বের আর ওয়ারী ক্লাবের সবাই খুব বন্ধু তাই খেলা শুরুর আগেই ওয়ারী ক্লাবে গেলাম। কীভাবে খেলা হবে এবং গোল করা যাবে না এ রকম ব্রিফিং দেওয়া শেষ হলো। তারপর ওয়ারী ক্লাব হকি মাঠে যাওয়ার জন্য রওনা হবে এমন সময় ওয়ারী ক্লাবের ফরওয়ার্ড মনসুর ইউনিভার্সিটির ক্লাস শেষ করে এসেই ড্রেস পরা শুরু করল। ব্রিফিং ঠিক মতন শোনে নাই। বহু খেলোয়াড় শরীরে তেল মাখে মাঠে স্বচ্ছন্দ থাকার জন্য। তবে পায়ের পাতার নিচে তেল মাখে এ শুধু মনসুরকেই দেখেছি। ফলে কেডসের ভেতরে পা পিছলায় আর বহু বার মাঠে আছাড় খায় ... এটা স্বাভাবিক, হতেই হবে। খেলাটা যে পাতানো এটা মনসুর না শোনাতে আর পুরো সিজন গোল করতে না পারার ব্যর্থতা মনসুরকে গোল দিতে পাগল করে ফেলেছে। মাঠের পাশে মধ্য রেখা বরাবর দুটো চেয়ারে খোশমেজাজে মমিন আর আলমগীর ভাই। আপস খেলা শেষ হতে বাকি অল্প সময়। টপ অব ডির ভেতর মনসুরের স্টিকে বল, গোলকিপার খুব একটা এগিয়ে গিয়ে অ্যাংগেল কভারের চেষ্টা ও নিল না । আপস বলে কথা। মনসুর পোস্টে শট এবং গোল। ঝট করে চেয়ার ছেড়ে আলমগীর আদিল ভাইয়ের মাঠ থেকে বের হওয়ার জন্য রওনা হলেন। মমিন ভাই কাছের আম্পায়ারকে বলেন, গোল শোধ না হওয়া পর্যন্ত খেলা চালাও। খেলা চলল, ২২ খেলোয়াড়, কর্মকর্তা আর আম্পায়ারদের সহযোগিতাতে কিছুক্ষণ পর গোল শোধ। তারপর ওয়ারী ক্লাবে গেলাম গোলদাতা মনসুর কী প্রশংসা পেল! এ রকম ‘ডি’ ব্রিফিং বহু বছর শুনিনি।

হকি বর্তমানে পরিচিতির উচ্চ আকাশে তবে সাধারণ জনতার মনের মাঝে আগে যে হকি ছিল সেই আন্তরিকতা এখন কমে যাচ্ছে।

advertisement