advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

রামপালে সুপেয় পানির দাবিতে মানববন্ধন

গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না

বাগেরহাট প্রতিনিধি
১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২২ ১২:৪৩ এএম
advertisement

উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি সংকট নিরসনে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বন্ধ করা, এলাকাভিত্তিক বড় বড় পুকুর, খাল ও জলাশয় খনন করে তাতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা এবং খাসজমিতে মিঠা পানির আধার তৈরি করার দাবি জানিয়েছে রামপাল উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। গতকাল বিকালে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে ‘বিনামূল্যে নিরাপদ ও পর্যাপ্ত সুপেয় পানিপ্রাপ্তি আমার অধিকার’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্কÑ প্রাণ, বাঁধন মানব উন্নয়ন সংস্থা এবং অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত উপকূলজুড়ে পানি অধিকার প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকারীরা এ দাবি জানান। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উজলকুড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুন্সি বোরহান উদ্দিন, ফয়লাহাট বণিক সমিতির সভাপতি আবদুস সালাম হাওলাদার, ফয়লাহাট মৎস্য সমিতির সভাপতি গাজি রাশেদুল ইসলাম ডালিম, উজলকুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মোয়াজ্জেম হোসেন, ইউপি সদস্য আজাহের হোসেন টুকু, সাবেক ইউপি সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির মুখে পড়ছে উপকূল। উপকূলীয় নদীগুলোর লবণাক্ততা ক্রমেই বেড়ে চলছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলীয় পানির উৎসগুলো লবণাক্ত হয়ে পড়ায় এসব উৎসের পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। ফলে উপকূলীয় জেলাগুলোতে সুপেয় পানির সংকট বেড়েই চলেছে। একদিকে লবণাক্ততার ফলে ভূ-উপরিস্থ পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপেও পানি উঠছে না। উপকূলীয় এলাকায় মানুষ নদী ও পুকুরের দূষিত পানি পানের কারণে ডায়রিয়া এবং কলেরাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খিঁচুনি, জরায়ু সমস্যাসহ গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে নারীরা বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তাই জরুরিভাবে উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) এবং রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন করলেও সেগুলো পর্যাপ্ত নয়, অন্যদিকে রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানি সংকটের বিষয়টি জরুরি বিবেচনায় নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ তথা সুপেয় পানি অধিকার নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

advertisement
advertisement