advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে ছয় প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১১:১০ পিএম
advertisement

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ছয় দফা প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি করোনা মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা এবং এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এই যুদ্ধ নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ করেছে।

advertisement 3

গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপ (জিসিআরজি) চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। খবর : বাসস।

advertisement 4

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রক্তক্ষয়ী ও বিপর্যয়কর সংকটের অবসানে উপায় বের করতে হবে। বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞা বিশ্বজুড়ে মানুষকে গভীরভাবে আঘাত করছে। বিশেষ করে সরাসরি সংঘাতের শিকার হওয়া দেশ এবং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের অব্যাহত ও প্রসারণশীল প্রভাব এবং যুগপৎ অন্যান্য সংকট আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে এটি উন্নয়নশীল

দেশ এবং আমাদের কোভিড পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা ও এসডিজি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় অনেক নতুন চ্যালেঞ্জ যুক্ত করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, তবু কোনো একক দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও বৈশ্বিক সংহতি। আমি এ বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট চিন্তা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে বলেন, বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে বৈশ্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলা করতে হবে। জি-৭, জি-২০, ওইসিডি, আইএফআই ও এমডিবিকে এখন তাৎক্ষণিক উদ্বেগগুলো মোকাবিলার প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে এসডিজি অর্থায়নের অভাব, সীমিত আর্থিক সংস্থান, ক্রমহ্রাসমান ওডিএ এবং ঋণ পরিসেবা।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সংঘাতের সময় খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে ক্ষতির হাত থেকে দূরে রাখার জন্য ভবিষ্যতের যে কোনো উদ্যোগকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তৃতীয় প্রস্তাব হলো, বিশ্ববাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করার জন্য সাহসী ও ব্যাপক পদক্ষেপের প্রয়োজন। বিশ্ববাণিজ্য ও রপ্তানি আয়ে নিম্ন ও মধ্যমআয়ের দেশগুলোর ন্যায্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করা অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবে বলেন, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং কার্যকর খাদ্য সংরক্ষণ ও বিতরণব্যবস্থার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে প্রযুক্তি সহায়তা, বর্ধিত ওডিএ এবং রেয়াতি অর্থায়নের লক্ষ্যে আমাদের আরও জিটুজি ও বিটুবি সহযোগিতার প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম প্রস্তাব হলো, জলবায়ু সহযোগিতার জন্য বৈশ্বিক কাঠামোকে আরও কার্যকর ও ন্যায্য করতে হবে। আর শেষ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের আসন্ন কপ ২৭-এর সুযোগটি সবচেয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ দেশগুলোর উদ্বেগ নিরসনে কাজে লাগানো উচিত। আমরা আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। যাতে সার্বিক উপায়ে জ্বালানি নিরাপত্তার সমস্যা মোকাবিলায় প্রয়েজনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করা যায়।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবকে তার নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, তার প্রচেষ্টায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগির এ ব্যাপারে একটি পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো যাবে। তিনি বলেন, আমরা সে লক্ষ্যে আপনার প্রচেষ্টা জোরদার করতে আপনার নির্দেশনার ওপর আস্থা অব্যাহত রাখব।

প্রধানমন্ত্রী সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সামনে উত্থাপিত তিনটি নীতি গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্দেশনা প্রদান করে। আমরা এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সঠিক নীতি ও বিকল্পগুলো সামনে আনতে অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট রাজস্ব ও আর্থিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচিগুলো বহুগুণে সম্প্রসারিত করা হয়েছে। কৃষি, এমএসএমই ও অন্যান্য দুর্বল খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের জ্বালানি উৎসগুলোর ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছি।

advertisement