advertisement
advertisement

সব খবর

advertisement
advertisement

সাফজয়ী নারীদের নিয়ে উৎসব
এমন জয় ও উৎসবের ধারাবাহিকতাই জাতির প্রত্যাশা

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০৪ এএম
advertisement

বাংলাদেশ উৎসবে মেতে উঠেছিল সাফ ফুটবল শিরোপাজয়ী মেয়েদের বরণ করার মাধ্যমে। ছাদ খোলা বাসে এ রকম উদযাপন আগে কখনো বাংলাদেশে হয়নি। তবে তিন দশক আগে অনূর্ধ্ব ১২ বছর বয়সী কিশোরদের গোথিয়া কাপ জয়ের মাধ্যমে এ রকম আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন অবশ্য খোলা ট্রাকে তাদের নিয়ে ঢাকার রাজপথে আনন্দ উল্লাস করা হয়েছিল। কিন্তু এখনকার মতো তখন জন্ম তারিখ নিবন্ধনের কড়াকড়ি না থাকায় অনেক কিশোরই ১২ বছরের বেশি ছিল বলে কথা উঠেছিল। তাতে সেই আনন্দকে নিখাদ ও নির্ভুল বলা যায় না। সেদিক থেকে সাফজয়ী নারীদের বিজয় এক নিষ্কলঙ্ক আনন্দময় ঘটনা। জাতি বহুকাল পর দলমত নির্বিশেষে এই আনন্দের উপলক্ষে যুক্ত হয়েছিল।

advertisement 3

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কেবল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি পায়নি; টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়, সর্বোচ্চ গোলদাতা, সেরা গোলকিপার ও ফেয়ার প্লে ট্রফি- সবই জিতেছে। পুরস্কারে অন্য কোনো দেশ ভাগ বসাতে পারেনি। এটি একেবারে নিরঙ্কুশ বিজয়। এই বিজয় সংশ্লিষ্ট মেয়েদের ও কোচিং স্টাফসহ বাফুফের সবার একাগ্র প্রয়াসের ফসল। আমরা আশা করব, এই বিজয় একটি মাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হয়ে যেন না থাকে। আমরা সাফল্যের ধারাবাহিকতা চাই এবং প্রতিযোগিতার বৃহত্তর পরিসরেও সাফল্য কামনা করি। একই সঙ্গে কেবল ফুটবল নয়, অন্যান্য ক্রীড়াতেও মেয়েদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে- সেটিই কামনা করি। কামনা করি, সব খেলাতেই ছেলেমেয়ে উভয়ের অংশগ্রহণ বাড়–ক এবং সাফল্যের হারও বাড়তে থাকুক।

advertisement 4

বাংলাদেশ এখনো প্রকৃত অর্থে একটি ক্রীড়ামুখী জাতিতে পরিণত হয়নি। অধিকাংশ পরিবারে খেলাধুলার রেওয়াজ নেই। দেশের ৪ কোটি শিশু-কিশোরের মধ্যে অত্যন্ত স্বল্প কয়েক ছেলেমেয়ে নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেয়। শিক্ষাঙ্গন ও পাড়া-মহল্লায় খেলাধুলার সুযোগ আরও বৃদ্ধি করতে হবে। মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এনে ছেলেমেয়েদের সমানভাবে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। আমরা জানি, সাফজয়ী মেয়েরা প্রতিপক্ষ দলের বাধাই শুধু ডিঙাননি। তারা দারিদ্র্য ও রক্ষণশীল সমাজের অনেক বিধিনিষেধকেও অতিক্রম করে এই জায়গায় এসেছেন। এখন সময় এসেছে তাদের মতো সব মেয়ের পাশে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা গ্রহণের। আমরা সেই পরিবর্তনের সুদিনের প্রত্যাশায় থাকব। সরকারের উচিত হবে আগামীতে শিক্ষা এবং খেলাধুলা ও সংস্কৃতির জন্য মেগাপ্রকল্প গ্রহণ করা। একটি ক্রীড়াপ্রেমী জাতি যে সমাজ গঠন করে, তা ভেতর থেকেই ইতিবাচক ও সুস্থ হয়ে গড়ে ওঠে। আমাদের সমাজ নানা রকম ব্যাধি ও মানসিক সংকটে স্থবির হয়ে পড়ছে। ক্রীড়াই একমাত্র পারে দ্রুত এর মধ্যে গতি ফিরিয়ে আনতে। আর গতি এলেই সব বিকৃতি, ভীতি ও দুর্বলতা কেটে যাবে।

advertisement