advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতিবাদ সমাবেশে নেতারা
নির্বাচন বানচালের চেষ্টা প্রতিহত করবে ১৪ দল

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

বিএনপিকে ষড়যন্ত্র বন্ধ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ১৪-দলীয় জোটের নেতারা বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দিন শেষ। এর ফিরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা যাচাই করুন। নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করা হলে ১৪ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে তা প্রতিহত করবে। তারা বলেন, রাজপথ কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। ১৪ দল রাজপথে আছে, থাকবে। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করার সময় শেষ। কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা ঘরে বসে থাকবে না, রাজপথেই তা মোকাবিলা করা হবে।

advertisement 3

গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে নেতারা এসব কথা বলেন। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার হীন মানসে বিএনপিসহ দেশবিরোধী অপশক্তির সন্ত্রাস নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

advertisement 4

সভাপতির বক্তব্যে ১৪ দলের মুখপাত্র ও সমন্বয়ক এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু

বলেন, বিএনপি পাকিস্তানের প্রেতাত্মা হিসেবে এই দেশে রাজনীতি করছে। আজ তাদের সেই থলের বিড়াল বেরিয়ে গেছে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে পাকিস্তানের জয়গানের মধ্য দিয়ে। আজ তাদের আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের মূল লক্ষ্য নির্বাচন নয়, তাদের মূল লক্ষ্য দেশে একটি অরাজনৈতিক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে ভিন্ন পথে ক্ষমতায় যাওয়া যায় কিনা, তারই একটি হিসাব-নিকাশ করা। কিন্তু সেই হিসাব-নিকাশে এখন অনেক গরমিল। পদ্মা মেঘনায় অনেক পানি গড়িয়ে গেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক পরিবর্তন হয়েছে।

আমির হোসেন আমু বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধ মেনে নিতে পারেনি, যারা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি, আজ তাদের প্রেতাত্মারাই তথাকথিত দল গঠন করে এই দেশে বারবার নৈরাজ্য সৃষ্টি করে অরাজনৈতিক সরকার গঠনের পাঁয়তারা করেছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিগত দুই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার মধ্য দিয়ে প্রমাণ করেছেন আপনারা নির্বাচনকে ভয় পান। আপনারা জনগণকে ভয় পান, জনগণ আপনাদের ভোট দেবে না। আপনারা জানেন, তাই আপনাদের মুখোশ উন্মোচন করতে চান না। তাই ছলেবলেকৌশলে সব সময় নির্বাচন থেকে দূরে থাকতে চান, দূরে সরে আছেন এবং আগামীতেও থাকবেন। এটা আমরা জানি, এটা আমরা বুঝি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নৈরাজ্য চাই না, কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না; কিন্তু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করলে আমরা ঘরে বসে থাকব না। আমরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিহত করব।’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বিএনপি বিগত দিনের নির্বাচন নিয়ে প্রহসন করেছে। আজ আবার সেই খেলায় মেতে উঠেছে। তারা আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়কের দিন শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সামনে একটামাত্র পথ খোলা আছে, সেটি হচ্ছে নির্বাচন। যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, নির্বাচনে বিশ্বাস করেন, তা হলে আগামী নির্বাচনে আসুন। শক্তি পরীক্ষার জন্য নির্বাচনে আসুন। তিনি বলেন, আজ ১৪ দলের নেতাকর্মীদের যে কোনো ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।

লাঠির মাথায় পতাকা নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় সমাবেশে যোগ দেওয়ার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, কীভাবে তারা লাঠি নিয়ে সমাবেশে গেল সেটা প্রশাসনকে দেখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনে জয়ী হয়, তারা নির্বাচনেও জয়ী হয়। আজ থেকে আমরা রাজপথে নেমেছি, বিজয়ী না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ থেকে সরব না।’

ভুল পথ ত্যাগ করে নির্বাচনে আসার জন্য বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জেপি মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন হবে, কেউ ঠেকাতে পারেনি, পারবেও না। তাই নির্বাচনে আসুন। নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো প্রস্তাব থাকলে দিন।

আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাউজভা-ারী, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড. শাহদাৎ হোসেন, ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশিদ খান, জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

advertisement