advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বকুলতলায় দুই দিনব্যাপী উৎসব উদ্বোধন
গানে কবিতায় শরৎবন্দনা

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:১৫ এএম
advertisement

ইট-পাথরের রাজধানী শহরে নেই শুভ্র কাশবন। আছে শুধু সুউচ্চ দালান। দালানগুলো ঢেকে রেখেছে ঢাকার আকাশ। এসবের মধ্যে ঋতুবৈচিত্র্যের দেশে শরতের আগমনী বার্তা বোঝার উপায় নেই। কিছুটা বোঝা গেলেও নগরজীবনের ব্যস্ততায় উৎসব আয়োজন করা হয়ে ওঠে না। নীল আকাশজুড়ে তুলার মতো পেঁজা মেঘের ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য চোখ পড়া দুষ্কর। তবু প্রকৃতির নিয়ম তো আটকে রাখা যায় না। কোথাও না কোথাও আছে ওসব। শরতের শুভ্রতা নিয়ে ফুটছে শিউলি। প্রভাতে ঝরে পড়ে শত শত ফুল। এর সুগন্ধ মনে লাগায় ভালোবাসার রঙ। কেউ-বা গাঁথে শেফালির মালা। কাশফুল তো শরতেরই স্মারক। শরতের রূপ হলো শান্ত-স্নিগ্ধ-কোমল। যেখানে মলিনতা নেই, আছে নির্মল আনন্দ আর অনাবিল উচ্ছ্বাস। কবি জীবনানন্দের ভাষায়, ‘যৌবন বিকশিত হয় শরতের আকাশে’। তাই তো শরতে

advertisement 3

শেফালি, মালতী, কামিনী, জুঁই, টগর আর সাদা সাদা কাশফুল মাথা উঁচিয়ে জানান দেয় অপার সৌন্দর্য। মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে দেয় চারপাশে। প্রকৃতির এমন রূপকে নগরবাসীর মাঝে উপস্থাপন করতে থাকে কিছু আয়োজন। আয়োজনগুলো নগরবাসীকে জানান দিয়ে যায় ঋতুচক্রের আবর্তন। তেমনি একটি আয়োজন ‘শরৎ উৎসব’।

advertisement 4

নগরজীবনে শরতের স্নিগ্ধতা উপলব্ধি করতে গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী আয়োজন করে শরৎ উৎসবের। কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় দুই দিনব্যাপী ‘শরৎ উৎসব-১৪২৯’। চারুকলার বকুলতলায় আয়োজিত শরৎ উৎসব নগরবাসীর মনে এনে দেয় অপার প্রশান্তি। নীল-সাদা শাড়ি, খোঁপায়-হাতে ফুলের সাজ আর নাচে-গানে চলে শরৎবন্দনা। এ উৎসবের মূল আয়োজনে পরিবেশন করা হয় গান, কবিতা ও নৃত্য। ছিল ‘শরৎকথন’ পর্ব। এতে ঋতুবৈচিত্র্যের দেশ বাংলাদেশের প্রকৃতির সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

বকুলতলায় এই শরৎ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ। আয়োজক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নৃত্যশিল্পী ড. নিগার চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। স্বাগত বক্তব্য দেন শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ বলেন, ‘শরতের বিকাল অসাধারণ। সাদা মেঘের ভেলা ও কাশফুলের শুভ্রতা মন জুড়িয়ে দেয়। শরৎ আমার সবচেয়ে প্রিয় ঋতু। এ ঋতু এলেই দিগন্ত বিস্তৃত কাশফুল দেখতে বেরিয়ে পড়ি।’ তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকার পূর্বাচল ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার খোলা স্থানগুলো, উত্তরা তৃতীয় পর্যায় (বর্ধিত) ও আফতাবনগরে কাশফুল বন দেখতে পাওয়া যায়। পদ্মা সেতু পার হওয়ার সময় নদীর দুদিকে পদ্মার চরে কাশফুলের দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে যায়।

অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, মাসুদুজ্জামান, নায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও সেবতি প্রভা। একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অনিমা রায়, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রি, বিজন চন্দ্র বিশ্বাস, সঞ্জয় কবিরাজ, আরিফ রহমান, ফেরদৌসি কাকলি, রত্না সরকার, এসএম মেজবাহ, শ্রাবণী গুহ রায়, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, তাপসী ঘোষ ও মারুফ হোসেন। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন স্পন্দন, সুরবিহার, নৃত্যাক্ষ, ভাবনা, বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস ও নৃত্যজন। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন বহ্নিশিখা, সুরনন্দন, পঞ্চভাস্কর, সুরবিহার ও সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী।

advertisement