advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী গৌতম আদানি
রকেট গতির উত্থান যার

শামস্ বিশ্বাস
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:২৬ এএম
advertisement

জেফ বেজস, বের্নার্ড আরন্যাল্টকে ছাপিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তির আসনে আসীন ভারতের শিল্পপতি গৌতম আদানি। তার সম্পত্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। এখন সামনে শুধুই এলন মাস্ক। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন- শামস্ বিশ্বাস

advertisement

advertisement 4

ফের নয়া রেকর্ড গড়লেন ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানি। লাফিয়ে সম্পদ বাড়ল ভারতীয় এই ধনকুবেরের। ফোর্বসের তালিকা অনুসারে বর্তমানে গোটা বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি আদানি গ্রুপের মালিক গৌতম আদানি। তার সামনে এখন শুধু রয়েছেন বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তি এলন মাস্ক। বের্নার্ড আরন্যাল্টকে টপকে আদানি চলে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। গৌতম আদানির বর্তমান সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। সেখানে তৃতীয় স্থানে থাকা বের্নার্ড আরন্যাল্টের সম্পত্তির পরিমাণ রয়েছে ১৫৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। তার সম্পত্তির পরিমাণ ২ দশমিক ৯১ শতাংশ কমে যেতেই আদানি টপকে উঠে এসেছেন দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে এলন মাস্কের সম্পত্তির পরিমাণ বেড়ে এখন বর্তমানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ২৭৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। বিশ্বের ধনীতম ব্যক্তিদের তালিকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিরাট পরিবর্তন এসেছে। অনেকটা পিছিয়ে পড়েছেন অ্যামাজনের অধিকর্তা জেফ বেজস। আগে যেখানে তিনি ছিলেন ২ নম্বর স্থানে, সেখান থেকে পিছলে নেমে এসেছেন ৪ নম্বর স্থানে। ৫ নম্বরে নেমে গিয়েছেন বিল গেটস।

কোন পথে এগিয়েছেন গৌতম আদানি

গত দুই বছরে আক্ষরিক অর্থেই রকেট গতিতে উত্থান ঘটেছে গৌতম আদানির। এই সময়সীমার মধ্যে তার সম্পত্তির ৬০০ শতাংশ বৃদ্ধি ঘটেছে বলে দাবি অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। ভারতীয় অর্থনীতিকে ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তাতেই তিনি অম্বানিকে ঢের পেছনে ফেলে দিয়েছেন বলে দাবি অর্থনৈতিক সংস্থা ব্লুমবার্গের।

২০২২ সালের আগে ও চলতি বছরের শুরুতে মুকেশ আম্বানির সঙ্গে সম্পত্তির জোর টক্কর চলত আদানির। তবে ২০২২ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে আম্বানিকে পার করে ভারতের দ্বিতীয় ধনীতম ব্যক্তি হন আদানি। আগস্টে বিশ্বের অন্যতম ধনকুবের বিল গেটসকে টপকে যান তিনি। আর শেষ কয়েকদিনে ব্যাপকভাবে সম্পত্তি বৃদ্ধি হওয়ায় এলন মাস্ক ছাড়া অন্য সবাইকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে চলে এলেন আদানি। ৬০ বছরের এই ধনকুবের তার কয়লা থেকে বন্দর ব্যবসাকে বাড়িয়েই চলেছেন। এখানেই শেষ নয়; ডেটা সেন্টার থেকে সিমেন্ট, মিডিয়া ও অ্যালুমিনাম পর্যন্ত সবকিছুতেই ব্যবসায়িক পারদর্শিতা দেখিয়েছেন আাদনি। এখন ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি ক্ষেত্রের বন্দর, বিমানবন্দর অপারেটর, সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর ও কয়লা খনির মালিক আাদানি গোষ্ঠী।

আদানির একদিনের আয় ১ হাজার ৬১২ কোটি ভারতীয় রুপি

বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি ২০২২ সালের আইআইএফএল ওয়েলথ হুরুন ইন্ডিয়ার ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষ স্থানে উঠে এসেছেন। এই প্রসঙ্গে হুরুন ইন্ডিয়ার রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত এক বছরে গৌতম আদানির সম্পদের পরিমাণ রীতিমতো হু হু করে বেড়েছে। ওই রিপোর্ট অনুসারে আদানির সম্পদ গত এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ১১৬ শতাংশ। এর পাশাপাশি সব মিলিয়ে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ কোটি ভারতীয় রুপি যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ দৈনিক ভিত্তিতে আদানি প্রতিদিন ১ হাজার ৬১২ কোটি ভারতীয় রুপি আয় করেছেন। এ ছাড়া ওই রিপোর্টে গৌতম আদানির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০ লাখ ৯৪ হাজার ৪০০ কোটি ভারতীয় রুপি ধরা হয়েছে।

রিপোর্টে আর কী বলা হয়েছে : এই প্রসঙ্গে হুরুন ইন্ডিয়ার এমডি আনাস রেহমান জুনায়েদ জানিয়েছেন, বিগত পাঁচ বছরে আদানি গ্রুপ অধিগ্রহণ ও অর্গানিক গ্রোথের দিকে মনোনিবেশ করেছে। আর এ কারণেই তার সম্পদ আশ্চর্যজনকভাবে ১ হাজার ৪৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আদানি গ্রুপের মোট ৭টি কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে। মূলত কয়েক বছর ধরে এসব কোম্পানির গ্রোথ ক্রমাগত বাড়ছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালটি আদানির বিপুল সম্পদ বৃদ্ধির জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনিই একমাত্র ভারতীয়- যিনি এক লক্ষ কোটি টাকার মার্কেট ক্যাপসহ সাতটি কোম্পানি তৈরি করেছেন। গৌতম আদানি ও তার ভাইদের মধ্যে সব থেকে বেশি উল্লেখযোগ্যভাবে র‌্যাংকিংয়ে উঠে এসেছেন। গৌতম আদানি ২০১৮ সালের অষ্টম স্থান থেকে বর্তমানে ১ নম্বরে উঠে এসেছেন। অন্যদিকে তার ভাই বিনোদ আদানি ৪৯তম স্থান থেকে উঠে এসেছেন ৬ নম্বরে।

আদানি গ্রুপের অধীন রয়েছে মোট সাতটি কোম্পানি

বন্দর ব্যবস্থাপনা, কয়লা উৎপাদন এবং কয়লার ব্যবসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন, গ্যাস সরবরাহ, সড়ক এবং রেলপথ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ সরঞ্জাম উৎপাদন, বিমানবন্দর পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা, আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন, আবাসন, ভোজ্য তেল, খাদ্যপণ্য- এ রকম নানা খাতে ব্যবসা রয়েছে কোম্পানিটির।

সম্প্রতি সিমেন্ট ব্যবসায় পা রেখেছেন গৌতম আদানি। আম্বুজা এবং এসিসি সিমেন্ট কোম্পানি কিনে নিয়েছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, এর পরই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক গোষ্ঠীতে পরিণত হলো আদানি শিল্পগোষ্ঠী। লিখে যেন শেষ করা যায় না। আর এসব ব্যবসা শুধু ভারতে নয়, আদানি গ্রুপ বিশ্বব্যাপী তার শিল্পস¤্রাজ্য গড়ে তুলেছে। মালিকানাধীন আদানি শিল্পগোষ্ঠীর সা¤্রাজ্য এখন আফ্রিকা থেকে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, এমনকি বাংলাদেশেও রয়েছে তার বিনিয়োগ। বাংলাদেশের বাজারে মোড়কজাত সয়াবিন তেলের বড় বিক্রেতা আদানি গ্রুপ।

বড় সিদ্ধান্ত আদানি-আম্বানির

গৌতম আদানির নেতৃত্বাধীন আদানি গ্রুপ ও মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ একে অন্যের থেকে প্রতিভাবান কর্মী ছিনিয়ে না নেওয়ার জন্য চুক্তি করেছে বলে জানা গেছে। আর এই চুক্তি হয়েছে সবার অজান্তেই। এমনিতেই প্রতিদ্বন্দ্বী ব্যবসায়ী সংগঠন এবং একে অন্যের প্রতিভাবান কর্মীদের নিজেদের দিকে টানতে চায়। তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথে হাঁটবে না এ দুই ধনকুবের আম্বানি ও আদানি। বিজনেস ইনসাইডারের এক রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের মে মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে দুই গোষ্ঠীর ‘নো পোচিং’ চুক্তি। এই চুক্তি আম্বানি ও আদানির মালিকানাধীন সব সংস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। উল্লেখ্য, দুই ধনকুবেরেরই ব্যবসা ছড়িয়েছেন অনেক ক্ষেত্রে। অনেক খাতেই তারা একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। আদানি গ্রুপ মূলত বিদ্যুৎ, বন্দর, বিমানবন্দর, পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তি ও সৌরশক্তি সেক্টরে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করেছে। এদিকে আদানি গ্রুপ সম্প্রতি পেট্রোকেমিক্যাল সেগমেন্টে প্রবেশ করেছে। এই খাতে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ শীর্ষে রয়েছে বর্তমানে। অন্যদিকে আম্বানির ভায়াকম মিডিয়া ব্যবসায় দীর্ঘদিনের খেলোয়াড়। একাধিক টিভি চ্যানেলের মালিক আম্বানির রিলায়েন্স গোষ্ঠী। এর পাশাপাশি সিনেমায় বিনিয়োগ করে ভায়াকম। আদানি সম্প্রতি এনডিটিভির শেয়ার নিজের নামে করেছেন। সংস্থার রাশ নিজের হাতে নিতে এনডিটিভির আরও শেয়ার কিনতে কোমর বাঁধছেন গৌতম আদানি। খুচরা পণ্যের ব্যবসায় আদানি ও আম্বানি নিজেদের জমি শক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সম্প্রতি খুচরা ব্যবসার প্রসার ঘটাতে ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিনিয়োগ লাভ করেছে আইপিওর মাধ্যমে। অন্যদিকে রিলায়েন্সও খুচরা ব্যবসায় নিজেদের প্রসার ঘটানোর নীলনকশা তৈরির ঘোষণা করেছে। মুকেশ আম্বানির মেয়ে সেই প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকবেন।

বিশ্বব্যাপী আদানি শিল্পসম্রাজ্য

ভারতের গুজরাটে ১৯৬২ সালে জন্ম নেন গৌতম আদানি। ব্লুমবার্গ লিখেছে, গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের ছাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করেননি। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমেই আজ তার অঢেল সম্পদ। আদানি গ্রুপের ওয়েবসাইটে যে তথ্য রয়েছে, সেই মোতাবেক তার মোট সম্পদের পরিমাণ ২৪২ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

প্রথম জীবন

গুজরাটের আহমেদাবাদের একটি জৈন পরিবারে শান্তিলাল ও শান্তি আদানির সন্তান গৌতম আদানি ১৯৬২ সালের ২৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার ৭ ভাইবোন রয়েছেন এবং তার মা-বাবা গুজরাটের উত্তরের অংশ থরাদ শহর থেকে আহমেদাবাদে এসেছিলেন। তার বাবা বস্ত্র ব্যবসায়ী ছিলেন।

কর্মজীবন : ১৯৭৮ সালে কৈশোর বয়সে গৌতম আদানি মহেন্দ্র ব্রাদার্সের জন্য হীরা নির্বাচক হিসেবে কাজ করতে মুম্বাই শহরে যান। তিনি মুম্বইয়ের জাভেরি বাজারে নিজস্ব হীরা দালালি সংস্থা প্রতিষ্ঠার আগে সেখানে ২-৩ বছর কাজ করেন।

এর পর ১৯৮১ সালে তার বড় ভাই মনসুখ ভাই আদানি আহমেদাবাদে একটি প্লাস্টিক ইউনিট কেনেন এবং তাকে পরিচালনার জন্য ডাকেন। এ উদ্যোগটি পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) আমদানির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাণিজ্য শুরু করেন আদানি।

ব্যক্তিগত জীবন : গৌতম আদানি প্রীতি আদানিকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির দুই ছেলে করণ আদানি ও জিৎ আদানি। তিনি জৈন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (জেআইটিও) সদস্য। ১৯৯৮ সালে তাকে অপহরণ করা হয় এবং মুক্তিপণের জন্য জিম্মি করা হয়। কিন্তু অর্থ না নিয়ে মুক্তি দেওয়া হয়।

বিশ্বের

ধনী ব্যক্তিদের

তালিকা

ষ এলন মাস্ক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার।

ষ গৌতম আদানি আয়ান্ড ফ্যামিলি ১৫৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

ষ বের্নার্ড আরন্যাল্ট আয়ান্ড ফ্যামিলি ১৫৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

ষ জেফ বেজস ১৪৯ বিলিয়ন ডলার।

ষ বিল গেটস ১০৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

ষ ল্যারি এল্লিসন ৯৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

ষ ওয়ারেন বাফেট ৯৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ষ মুকেশ আম্বানি ৯১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।

ষ ল্যারি পেগ ৮৯ বিলিয়ন ডলার।

ষ সেরজি ব্রেইন ৮৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার।

advertisement