advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

নোবেল পুরস্কার পেলে স্বার্থক হবে শেখ হাসিনার অবদান

শতাব্দী আলম
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:২৪ এএম | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০১:১৭ পিএম
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরোনো ছবি
advertisement

অষ্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ইন ক্যানবেরার ‘পিস এন্ড রিসার্চ ইনিস্টিটিউট’ প্রধান ড. হেনরিক উরডাল নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করে বলেছিলেন, ‘বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকেই বিশ্ব শান্তির নেতার মর্যাদা দেওয়া উচিত। সত্যিকার অর্থেই যদি শান্তিতে অবদানের জন্য কোনো পুরস্কার থাকে তাহলে সে পুরস্কার পাওয়ার একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি হলেন শেখ হাসিনা।’

কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী শেখ হাসিনাকে মানব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হোক। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিবসে এটাই কামনা করছি। জানি আমার কথা বা লেখা কোনো কিছুই নোবেল কমিটির কানে পৌঁছাবে না। তবে হৃদয় অনুভুতির শক্তি অসীম। কৃতজ্ঞতা এবং ভালোবাসার মহিমা অপার। সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতার জয়জয়কার। বিশ্ব মানবতায় আমার মতো অগণিত মানুষ তাই মনে করে। সেই শক্তি ও মহত্ত্ব বুকে ধারণ করে আমার এবং আমাদের এই কামনা। মানবতার জননী নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হোন।

বলা হয়ে থাকে, বিশ্বে বেশ ক’জন মহান নেতাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত না করায় নোবেল প্রাইজ তার মর্যাদাহানি করেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। ১৫ আগস্টের নৃশংসতা বাংলাদেশ ও বিশ্বের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। তার সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারপ্রধান হিসেবেও বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উচ্চতার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

advertisement

শুধু বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অবস্থানই না, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অবদান আধুনিক পৃথিবীর জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। ইতোমধ্যে মানব জাতি তাকে ‘মানবতার জননী’ স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বশান্তি নিয়ে কাজ করা বাঘা বাঘা প্রতিষ্ঠান, অধ্যাপক, গবেষকগণ শেখ হাসিনাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করার জন্য নাম প্রস্তাব করেছেন।

advertisement 4

এর আগেও একাধিকবার নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব হয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন, অত্যন্ত শক্ত দাবিদার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী শেখ হাসিনা।

বিশ্বের কোনো প্রথিতযশা বিশ্ববিদ্যালয়, শান্তিবাদী প্রতিষ্ঠান এবং গবেষক শেখ হাসিনাকে শান্তির অগ্রদূত হিসেবে মনে করেন। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ‘অক্সফোর্ড নেটওয়ার্ক অব পিস স্টাডিজ, এর দুজন শিক্ষাবিদ ড. লিজ কারমাইকেল ও ড. এন্ড্রু গুসলার শেখ হাসিনাকে মানবিক বিশ্বের প্রধান নেতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস স্টাডিজ বিভাগের তিন অধ্যাপক ড. অলডো সিভিকো, ড. দিপালী মুখোপাধ্যায় ও ড. জুডিথ ম্যাটলফ শেখ হাসিনাকে বিশ্ব শান্তির দূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের হার্ভার্ড ডিভাইনিটি স্কুলের ডিন ডেভিড এন হেম্পটন বলেছেন, এতগুলো শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য মানবিক হৃদয় লাগে। জার্মানি যা করতে পারেনি, শেখ হাসিনা তা করে দেখিয়েছেন। বিশ্বশান্তি নিয়ে গবেষণা করা এতসব বাঘা বাঘা মনীষীদের মন্তব্যের পরও কিছু কথা থেকে যায়। যা সবার অগোচরে। মানুষের জন্য শেখ হাসিনার হৃদয় উজার করা ভালোবাসা। মানবতার জন্য মায়া-মমতা ও দরদ। আর এখন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষও শেখ হাসিনাকে ভালোবাসে। হয়ত বলবেন, নোবেল পুরস্কার নয় মানুষের ভালোবাসাই সব থেকে বড় প্রাপ্তি। তবু বলবো, নোবেল শান্তি পুরস্কার আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাপ্য।  

কেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা উচিত এর কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয় তুলে ধরতে চাই। প্রথমত, রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার কথা বলব। বিশ্বের উন্নত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ কথিত উন্নত রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র প্রধানগণ শরণার্থী সমস্যাকে এড়িয়ে গেছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেসব রাষ্ট্রে শরণার্থী প্রবেশে বাধা দিতে কুণ্ঠা বোধ করেননি। প্রতিদিন উন্নত জীবনের আশায় ছোটা অভিবাসীদের বিতাড়িত করা হচ্ছে। সেখানে অপেক্ষাকৃত ওসব দেশের চেয়ে দুর্বল অর্থনীতির বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে মায়ানমারের ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সামাধান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অবদান অনস্বীকার্য।

দ্বিতীয়ত, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বিশ্বের জন্য প্রধান সমস্যাগুলোর একটি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে শতভাগ সফল। সরকার সর্বদাই জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে মনিটরিং করছে। যে কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাথা তোলারই সুযোগ পায় না। মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ার পরও সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআই বা আল কায়েদা সদস্যরা বাংলাদেশে সুবিধা করতে পারেনি। অতীতে বাংলাদেশের একটি দলের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী ভারতের সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে সহযোগিতার অভিযোগ ছিল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে জঙ্গিবাদ বিরোধী ভূমিকার কারণে প্রতিবেশী ভারতের ইউনাইটেড লবারেশন অব আসাম (ওলফা) সমস্যা সমাধান সহজ হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে শন্তু লারমার নেতৃত্বে উপজাতিদের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। প্রথমবার ক্ষমতাসীন হলে ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনা পার্বত্য শান্তি চুক্তি করেন। যে চুক্তির বলে উপজাতিরা তাদের নাগরিক মর্যাদা লাভ করে। পাহাড়ে শান্তি ফিরে আসে।

বাংলাদেশ বিশ্ব শান্তি রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। যে কারণে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বদা মানব জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আর্ন্তজাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ প্রথম এবং শেখ হাসিনা প্রধান ভূমিকা রাখছেন। বিশ্বশান্তি রক্ষায় যার নেতৃত্বে সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখা হচ্ছে তিনিই তো শান্তি পুরস্কারের জন্য উপযুক্ত। তাই শেখ হাসিনারই নোবেল শান্তি পুরস্কারের প্রাপ্য।

বাংলাদেশের মানুষ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। একসময়ের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য পিড়িত বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশ। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থ বছরে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলার। শিক্ষার হার ৭৫, গড় আয়ু ৭২ দশমিক ৩ বছর। ২০২২ সালে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। অর্থনীতিবিদদের মতে আগামি ২০৩০ বাংলাদেশ বিশ্বে ২৪তম বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। প্রতিদিন এসব পরিসংখ্যান উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এসব কিছুই সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ফসল। দুর্নীতি প্রতিরোধে শেখ হাসিনা সরকার দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। নিজ দলের চিহ্নিত ও জনপ্রিয় অনেক নেতাও রেহাই পায়নি। সরকারের অনেক বড় বড় আমলা দুর্নীতির দণ্ডে পদচ্যুত হয়েছেন। নিজ জনসাধারণ দেশের মানুষের শান্তিপূর্ণ সোবস্থান বিশ্বশান্তির প্রথম শর্ত। শেখ হাসিনা তা বেশ ভালোভাবেই নিশ্চিত করেছেন।

রাজনৈতিকভাবেও শেখ হাসিনার নেতৃত্ব প্রশংসনীয়। সম্প্রতি সর্ববৃহৎ বিরোধীদল বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিশেষ ক্ষমতায় করামুক্তি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশিলতা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে শান্তিপূর্ণ। শেখ হাসিনার জনমুখী কার্যক্রমে বিরোধীদলগুলোও অনুধাবন করেছে। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন বা হরতাল জনসাধারণকে কেবল ভোগান্তিই দিতে পারে। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই দেশের মঙ্গল ও শান্তি নিহিত। রাজনৈতিকভাবে দেশের স্থিতিশিল অবস্থার জন্য যেমন শেখ হাসিনার কৌশলী রাজনীতি ফলপ্রসূ হয়েছে। ঠিক একইভাবে আন্তঃমহাদেশীয় রাজনীতিতেও শেখ হাসিনা সমীহ জাগানিয়া নাম।

এশিয়া তথা বিশ্বের দুই বৃহৎ পরাশক্তি চীন ও ভারতের সঙ্গে সমান তাল রেখে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিদেশনীতি। বাংলাদেশকে তুষ্ট করতে চীন বা ভারত রীতিমতো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। এখানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিশালত্ব। ভূখন্ড, আয়তন বা অর্থনীতি সবকিছুই ব্যক্তি শেখ হাসিনার কাছে মৃয়মান। বিশ্ব নেতৃত্বে শেখ হাসিনা প্রথমসারির বিশ্ব নেতা। একজন বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা সত্যিকারের বিশ্বশান্তির দূত। শান্তি পুরস্কার তারই গলায় সাজে।

করোনা মহামারীতে পর্যুদস্ত বিশ্বে বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবে জনবহুল বাংলাদেশে করোনা সেভাবে বিস্তার হয়নি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিরোধমূলক আগাম ব্যবস্থা গ্রহণের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। শেখ হাসিনার করোনা নিয়ন্ত্রণ বিশ্বে প্রশংসিত ও পঠিত হচ্ছে। যেকোনো রোগবালাই মানবসমাজে অশান্তি সৃষ্টি করে। অর্থনৈতিক স্থবিরতা আনে। সেখানে দুরারোগ্য করোনা বাংলাদেশের মতো জনবহুল ও উন্নয়নশীল দেশে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রেখে যাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শেখ হাসিনার বিশেষ পদক্ষেপে সে রকম কিছু ঘটেনি। এটা অনেক বড় অর্জন।

সর্বোপরি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তথা বিশ্ব মুসলিমের অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন শেখ হাসিনা। ইসলাম ধর্মাবলম্বী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় তার সবথেকে বড় নজির। সৌদি আরবের নেতৃত্বে মুসলিম জোটে বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। দেশের অভ্যন্তরে ধর্মীয় মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে যেমন দমন করেছেন। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতে ইসলামের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছেন শেখ হাসিনা। এতে দেশের মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা খুশি। ধর্মীয় শিক্ষায় শেখ হাসিনার এই একটি পদক্ষেপের কারণে বিশ্ব শান্তির জন্য অনুকরণীয় হতে পারে। কারণ, সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমেই মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা সম্ভব। যারা ভুল পথের ইশারায় জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত হতে পারতো। শেখ হাসিনার নেতৃত্বগুণে তারাই এখন সরকারের সহযোগিতায় ধর্মীয় শিক্ষা পাচ্ছে। সমাজের মূল ধারায় সামিল। এটাই শেখ হাসিনার অন্যন্যতা। শেখ হাসিনার মমত্ব। শেখ হাসিনার মানবিকতা। মানবতার শান্তির দূত শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্মদিনে শুভ কামনা। নোবেল শান্তি পুরস্কারে সাফল্যমণ্ডিত হোক তার মানবতার অবদান। জয়তু শেখ হাসিনা।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

advertisement