advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

আগে যারা বাধা দিত তারাও আনন্দ করছে: সাফজয়ী স্বপ্না

রংপুর ব্যুরো
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:৪৯ পিএম | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:৪৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
advertisement

২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ছিল রংপুরবাসীর জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক আকবর আলীকে সেদিন রাজকীয়ভাবে বরণ করে নিয়েছিলেন রংপুরের মানুষ। ঠিক যেন মুঘল সম্রাজ্যের অধিপতি সম্রাট আকবর নতুন রূপে ফিরে এসেছিলেন। তার আগমনকে ঘিরে দিনভর নগরীর সর্বত্র চলছিল উৎসবের আমেজ।

এবার আড়াই বছর পর সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় সিরাত জাহান স্বপ্নাও ফিরলেন ঠিক যেন রানির বেশে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর সড়ক পথে রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এসে পৌঁছান স্বপ্নারা। বিমানবন্দর ও রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে রংপুর সিটি করপোরেশন, রংপুর জেলা প্রশাসন, বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, সদর উপজেলা পরিষদ, জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

advertisement

এ সময় সাফজয়ী দলের অপর দুই কৃতি খেলোয়াড় ঠাকুরগাঁওয়ের স্বপ্না রানী রায় ও সোহাগী কিসকুও সঙ্গে ছিলেন। তাদের কাছে পেয়ে হিমালয় জয়ের সে আনন্দ উল্লাসের ঢেউ আছড়ে পড়ে রংপুরের মাটিতে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের অন্যতম খেলোয়াড় সিরাত জাহান স্বপ্না বলেন, ‘যখন আমি প্রথম ফুটবল খেলা শুরু করেছিলাম, তখন এলাকার অনেকেই বাধা সৃষ্টি করেছিল। আমাদের সমাজের পুরুষরা চেয়েছিলেন মেয়েরা পিছিয়ে থাক। এখন আমার এই সাফল্যে তারাও আনন্দ প্রকাশ করছে। পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। সামনে আমাদের আরও ভালো করতে হবে।’

advertisement 4

বিদেশি ক্লাবে খেলার সম্ভাবনার কথা জানিয়ে স্বপ্না বলেন, ‘বিদেশি ক্লাবে খেলার জন্য মৌখিকভাবে ৭ জনকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আমার নামও রয়েছে। আমিও বিদেশি ক্লাবে খেলবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুরের মানুষ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে দেখে আমি খুবই আনন্দিত হয়েছি। এভাবে বরণ করে নেওয়া আমাকে সামনে ভালো করার জন্য অনুপ্রাণিত করবে।’

অপর সাফজয়ী খেলোয়াড় স্বপ্না রানী রায় বলেন, ‘শিরোপা ঘরে আনতে পেরে আমরা গর্ববোধ করছি। দেশের সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আরও ভালো কিছু করতে সবার সহযোগিতা চাই।’

ঠাকুরগাঁওয়ের এই ফুটবল কন্যা আরও বলেন, ফুটবল খেলার শুরুতে অনেক বাধা এসেছে। হাফ প্যান্ট পরে মেয়েরা ফুটবল খেলছে বলে গ্রামের মানুষেরা কটূক্তি করেছে। এতেও আমরা থেমে থাকিনি। স্কুলপর্যায়ে খেলার সময় স্যারেরা অনেক সহযোগিতা করেছেন। এখন সবাই উৎসাহ দিচ্ছে।’

নারী ফুটবলার সোহাগী কিসকু বলেন, ‘সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গোটা দেশের মানুষ আমাদের চিনেছে। আমরা চাই, গ্রামের নারী ফুটবলাররা যেন গ্রামে খেলার সুযোগ পায়।’

এদিকে স্বপ্নাদের স্বপ্ন পূরণের সারথি হতে সকাল থেকেই ঐতিহাসিক পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে অধীর আগ্রহে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন সর্বস্তরের মানুষ। বেলা দেড়টার দিকে সংবর্ধনা মঞ্চে উপস্থিত হতেই শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে সংবর্ধনা স্থল। ফুলেল শুভেচ্ছা আর ফুটবল প্রেমীদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ওঠেন ফুটবল কন্যা সিরাত জাহান স্বপ্না, সোহাগী কিসকু ও স্বপ্না রানী।

এ সময় রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, বিভাগীয় ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ আজাদ, জেলা পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক চায়না চৌধুরীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বিকেল ৪টায় সদ্যপুস্করিণীর পালিচড়ায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। এতে বৃহত্তর দিনাজপুর ও রংপুরের নারী ফুটবলাররা অংশ নেবেন। এছাড়া সেখানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

advertisement