advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট
চামড়াশিল্পে বাড়ছে চাকরির সুযোগ

মেহেদী হাসান
৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৯ পিএম
ছবি: আমাদের সময়
advertisement

যে এলাকায় আগে চামড়ার উটকো গন্ধে টেকা ছিল দায়, ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তরিত হওয়ায় এখন সে অবস্থা আর নেই। নেই ময়লার স্তূপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটেও পড়াশোনার ক্ষেত্রেও এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। দেশের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনকারী ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য চামড়া। এই শিল্পে ট্যানারি থেকে শুরু করে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে রয়েছে কর্মজীবন গড়ার সুযোগ। এসব পদের জন্য লেদার টেকনোলজির বিষয়ে বিশেষ পারদর্শীদের নিয়োগ করা হয়। তাদের বেশিরভাগই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করা।

কলেজ অব লেদার টেকনোলজিকে ২০১১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত করে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়। এ ইনস্টিটিউটের পাঁচটি ব্যাচে বর্তমানে ৭২৯ জন শিক্ষার্থী ও ৩২ জন পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্গত প্রকল্প ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক গ্রোথ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় লেদার সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ফিজিক্যাল ও কেমিক্যাল ল্যাবরেটরিকে আন্তর্জাতিক মানসম্মত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।

advertisement

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে চামড়া শিল্পের তিনটি সাব-সেক্টর রয়েছে। ট্যানারি, লেদার প্রোডাক্টস এবং ফুটওয়্যার সেক্টর। দেশে বর্তমানে ১১০টি রপ্তানিমুখী কারখানায় চামড়াজাত পণ্য তৈরি হয়। শুধু কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে এমন ট্যানারির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ২২০টি এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৩ হাজার ৫০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি চামড়াজাত পণ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

advertisement 4

বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চামড়া শিল্প বিষয়ে ডিগ্রি প্রদান করা হয়ে থাকে। নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে প্রথমবর্ষের প্রথম সেমিস্টার থেকেই ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন সেমিস্টারে ফিল্ড ট্যুরের মাধ্যমে ট্যানারি, ফুটওয়্যার ও লেদার প্রোডাক্টস ইন্ডাস্ট্রিতে গিয়ে হাতেকলমে কাজ শিখতে পারে।

ঢাবির লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট গিয়ে দেখা যায়, প্রথমে ড্রয়িং খাতায় জুতা আঁকার পর কাঁচি দিয়ে কেটে যন্ত্রে বসানোর কাজ করছিলেন একদল শিক্ষার্থী। সঙ্গে শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষার্থী। ক্লাসের পড়াগুলো এখানে এসে হাতে-কলমে কাজে লাগানোর সুযোগ পান তারা।

অনন্যা ফাতেমা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে অনেক পরির্বতন হয়েছে। ৩০ বছরের পুরোনো সিলেবাস গত বছরে বদলেছে। এ ছাড়া সেমিস্টার সিস্টেম চালু হয়েছে। এখানে ল্যাবের যন্ত্রগুলো প্রায় সব কটিই সচল। অনেক যন্ত্র থাকার কারণে আমাদের কাজের জন্য বসে থাকতে হচ্ছে না। শিক্ষকরাও খুব আন্তরিক।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, এখানে ভর্তি হওয়ার পর সেশনজট নিয়ে কিছুটা হতাশা ছিল। এ ছাড়া করোনার পর চামড়াশিল্প ধাক্কা খাওয়ায় কাজের সুযোগ নিয়েও সন্দিহান ছিলাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। সেশনজট নেই। স্নাতক শেষ হওয়ার আগেই অনেকে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক সাইদুর সাকিল বলেন, আমি এখানেই পড়ালেখা করেছি। আবার এখানেই শিক্ষকতা করছি। এটা দারুণ ব্যাপার। আমরা যেসব সমস্যায় পড়েছি, এখন আর তা নেই। আমাদের সময়ে সেশনজট, দক্ষ প্রশাসক, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও উচ্চতর গবেষণা প্রকল্পের অভাব, নষ্ট যন্ত্রপাতিসহ অনেক সমস্যা ছিল। মাস্টার্স না থাকায় অনেকে হতাশ ছিল। এখন এসব সমস্যা নেই। তিন বিষয়ে মাস্টার্স চালু হয়েছে গত বছর থেকে।

এখানে পড়ার সুযোগ রয়েছে বিদেশি শিক্ষার্থীদেরও। বর্তমানে রয়েছে রেমন্ড ওহিং শিকুকু নামে একমাত্র বিদেশি। তিনি এসেছেন কেনিয়া থেকে। লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মাস্টার্স করছেন। রেমন্ড বলেন, আমি রানি এলিজাবেথ কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে এখানে এসেছি। কেউ আমাকে লেদার বিষয়ে পড়ালেখার কথা জিজ্ঞেস করলে আমি এই প্রতিষ্ঠানে আসার পরামর্শ দিই।

লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের পরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এখানে ২০ বছর আগের সিমেন্টের রাবিশ, চামড়ার উচ্ছিষ্ট দিয়ে চারপাশ ভর্তি ছিল। আমি প্রায় ১৫ ট্রাক ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করেছি। এখানে তিন বিভাগেই মাস্টার্স চালু করার পাশাপাশি এ বছর থেকে এমফিল ও পিএইচডি চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে আয়োজিত চাকরির মেলায় প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী চাকরি পাচ্ছে। লেদার বিষয়ে বিদেশি ১০ জন বক্তা এনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছেন তিনি।

advertisement