advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধে মা-বাবার সাবধানতা অতি জরুরি

অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার
১২ নভেম্বর ২০২২ ০২:০২ পিএম | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০২২ ০২:০২ পিএম
অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার
advertisement

আজ বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস। প্রতিবছর ১২ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় এই দিবসটি। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়- নিউমোনিয়া এফেক্টস এভরিওয়ান অর্থাৎ নিউমোনিয়া সবাইকে আক্রান্ত করে। দিবসটি ঘিরে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোও নানা কর্মসূচি অত্যন্ত ঘটা করে আজ পালন করছে। উদ্দেশ্য, নিউমোনিয়ার ভয়াবহতা সম্পর্কে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, যাতে ভবিষ্যতে এই রোগে আর কারও মৃত্যু না ঘটে।

নিউমোনিয়া কী

advertisement

নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের এক ধরনের ইনফেকশন বা ফুসফুসের কোষ ‘প্যারেনকাইমার’ প্রদাহ। সাধারণত ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ের আগে শিশুর জন্ম, ওজন কম হলে, অপুষ্টি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, টিকা সময়মতো না নিলে অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা, যেমন- জন্মগত হৃদরোগ হলে শিশু নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ৫ বছরের কমবয়সী শিশুদের বিশ্বব্যাপী প্রধান ঘাতক নিউমোনিয়া। প্রতি ঘণ্টায় একশ জনের বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।শিশু আরএস ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে চার থেকে ছয় দিন সময় লাগে এবং ফ্লু ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হলে এক থেকে তিন দিন সময় লাগে। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর রোগ প্রকাশ হতে একদিন থেকে শুরু করে দুই সপ্তাহ সময় লাগে। আবার টিবিজনিত নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুদের রোগ সংক্রমণে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। অনেক সময় শিশু ঘুমিয়ে থাকলে বা অচেতন অবস্থায় রোগীকে খাওয়ালে খাবার খাদ্যনালির পরিবর্তে ফুসফুসে ঢুকে যেতে পারে। এ অবস্থায় এসপিরেশন নিউমোনিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।

advertisement 4

লক্ষণ

প্রচণ্ড জ্বর, কাশি, সর্দি এবং শ্বাসকষ্ট হলো নিউমোনিয়ার প্রধান লক্ষণ। ১ বছরের বেশি এবং ৫ বছরের নিচের শিশুদের প্রতি মিনিটে ৪০ বা তার চেয়ে বেশি হলে আমরা তাকে নিউমোনিয়ার কারণেই দ্রুত শ্বাস হিসেবে ধরে নিই। জ্বরের সঙ্গে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট, বুক দেবে যাওয়া- এসব লক্ষণ দেখা দেয়। শ্বাসকষ্টের কারণে শিশুর মুখে খাবার নিতে পারে না এবং ঘুমাতেও পারে না।

জটিলতা

নিউমোনিয়া জন্মগত হৃদরোগ, সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা ক্যানসারের জটিলতার কারণে হলে এবং সঙ্গে শারীরিক অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিউমোনিয়া থেকে রোগ জটিলতাস্বরূপ ফুসফুসে পানি, ফুসফুসে পুঁজ অথবা ফুসফুস একেবারে চুপসে যেতে পারে। নিউমোনিয়া থেকে পুষ্টিহীন বা রোগ প্রতিরোধহীন শিশুরা এনকেফালাইটিস বা মেনিনজাইটিস রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

যখন হাসপাতালে নেওয়া জরুরি

নিশ্বাস নেওয়ার সময় শিশুর পেট ভেতরে ঢুকে গেলে। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে। নিশ্বাস নেওয়ার সময় নাক ফুলে উঠলে। মুখ ও ঠোঁটের চার পাশ নীল হয়ে গেলে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর এলে।

চিকিৎসা

নিউমোনিয়ার রোগীর নাকে সর্দি জমে থাকার কারণে অনেক সময় শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এ জন্য বাচ্চার নাক লবণ পানির দ্রবণ দিয়ে খাবার ও ঘুমের আগে পরিস্কার করে রাখতে হবে। নিউমোনিয়ার রোগীর পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করতে হবে। জাউ ভাত, সাগু, শিং মাছের ঝোল তার নৈমিত্তিক পথ্য হতে পারে না। তাকে প্রতিদিন দুধ ডিম মাছ মাংস দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শে প্রয়োজন হলে শিশুকে স্টিম ভেপার বা নেবুলাইজার সহযোগে সোডিয়াম ক্লোরাইডের দ্রবণ (সলো বা নরসোল) দেওয়া যেতে পারে।

কাফ মেডিসিন বা ব্রংকোডাইলেটর গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। অনেক সময় শ্বাসকষ্ট বেশি হলে অক্সিজেন গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া হলে যথাযথ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করতে হবে। ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়া দেখা দিলে অ্যান্টি ফাঙ্গাল ওষুধ প্রয়োগের প্রয়োজন হতে পারে। ভাইরাস শনাক্তকরণ আমাদের দেশে কষ্টকর হলেও সে ক্ষেত্রে অনুমিত মাত্রার অ্যান্টিভাইরাস ওষুধ দেওয়া হয়ে থাকে।

লেখক: অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার
বিভাগীয় প্রধান, শিশু হৃদরোগ বিভাগ
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
শেরেবাংলা নগর, ঢাকা

advertisement