advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

ফেসিয়াল পালসি চিকিৎসায় ভালো হয়

অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ
১৯ নভেম্বর ২০২২ ০২:১৫ পিএম | আপডেট: ১৯ নভেম্বর ২০২২ ০২:১৭ পিএম
অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ
advertisement

ফেসিয়াল পালসি বা বেলস পালসি রোগ মূলত মুখে দেখা দিয়ে থাকে। নার্ভ ড্যামেজের কারণে মুখ নড়াচড়া করানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। আরও নানা রকম জটিলতা দেখা দিয়ে থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, রোগটি ফেসিয়াল নার্ভ প্যারালাইসিস নামে পরিচিত। জন বেল নামে এক ভদ্রলোক এ রোগটি প্রথম আবিষ্কার করেন। তার নাম অনুসারেই রোগটির নাম বেলস পালসি।

এটি এক ধরনের প্যারালাইসিস। সাধারণত আমাদের সপ্তম ক্রেনিয়াল নার্ভটিই ফেসিয়াল নার্ভ নামে অভিহিত। এটি অনেক সময় আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইজড হয়ে যায়। তখন তাকে বলে ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা পালসি। এটি যেকোনো বয়সী নারী বা পুরুষ অথবা উভয়েরই হতে পারে। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের মধ্যে রোগটি খুব বেশি দেখা দিয়ে থাকে।

ফেসিয়াল পালসি বা বেলস পালসি হওয়ার কারণ

advertisement

বিভিন্ন কারণে এ রোগটি হয়ে থাকে। উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-

advertisement 4

১. ভাইরাস ইনফেকশন
২. মধ্যকর্নে ইনফেকশন
৩. ঠান্ডাজনিত কারণ
৪. আঘাতজনিত কারণ
৫. মস্তিষ্কে স্ট্রোকজনিত কারণ
৬. ফেসিয়াল টিউমার
৭. কানের অপারেশন-পরবর্তী ফেসিয়াল নার্ভ ইনজুরি ইত্যাদি।

ফেসিয়াল পালসি বা বেলস পালসির লক্ষণ

১. আক্রান্ত রোগীর মুখ একদিকে বাঁকা হয়ে যায়
২. আক্রান্ত পাশের চোখ বন্ধ হয় না ও চোখ দিয়ে পানি পড়ে
৩. কুলি করতে গেলে অন্য পাশে চলে যায়
৪. খাবার গিলতে কষ্ট হয়
৫. কপাল ভাঁজ করতে পারে না
৬. অনেক সময় কথা বলতে কষ্ট হয় ইত্যাদি।

রোগ নির্ণয়

এটি একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যালি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ও রোগীর কাছ থেকে রোগের ইতিহাস শুনে সহজেই রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। তবে অনেক সময় কিছু প্যাথলজিক্যাল ও রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো হলো-

১. কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট উইথ ইএসআর
২. এক্স-রে অফ টিএম (টেম্পরো-মেন্ডিবুলার) জয়েন্ট
৩. নার্ভ কন্ডাকশন ভেলসিটি (এনসিভি) অফ ফেসিয়াল নার্ভ ইত্যাদি।

ফেসিয়াল পালসি বা বেলস পালসির চিকিৎসা

এ রোগের চিকিৎসা কারণের ওপর নির্ভর করে। ফেসিয়াল পালসির চিকিৎসার জন্য কর্টিকোস্টেরয়েড হলো সব থেকে ভালো ওষুধ। দেখা গেছে, এ ওষুধ সেবনের পর রোগী ৬ মাস কিংবা তার বেশি সময় আরাম বোধ করে থাকেন। তবে এ অবস্থার জন্য প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্টেরোয়েড দিয়ে চিকিৎসা করা উচিত। যদি সন্দেহ করা হয় যেকোনো ভাইরাস এই রোগের কারণ, তা হলে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেওয়া যেতে পারে। ওষুধের পাশাপাশি, ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পেশির ব্যায়াম করা খুব প্রয়োজন।

রোগীটি বেশি জটিল হয়ে উঠলে অর্থাৎ মারাত্মক আকার ধারণ করলে, যেখানে ট্রমার কারণে স্নায়ু সংকুচিত হয়ে যায় বা আক্রান্ত হয়ে থাকে, সেই স্থানটি অপারেশন করে সমস্যা দূর করা যায়। এতে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন এবং পরবর্তীকালে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।

লেখক: অধ্যাপক ডা. হারাধন দেবনাথ
অধ্যাপক, নিউরোসার্জারি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা
চেম্বার: ল্যাবএইড হসপিটাল লি. ধানমন্ডি, ঢাকা
০১৭১১৩৫৪১২০

advertisement