advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

বদির চার ভাইসহ আত্মস্বীকৃত ১০১ ইয়াবা কারবারির জেল

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার
২৪ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৩ নভেম্বর ২০২২ ১১:৫১ পিএম
advertisement

টেকনাফে প্রথম দফায় আত্মসমর্পণ করা ১০১ ইয়াবা কারবারিকে মাদকের মামলায় দেড় বছর করে কারাদ- দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় প্রত্যেককে খালাস দেওয়া হয়েছে। দ-প্রাপ্তদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির চার ভাই আছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাঈল এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে ১০১ আসামির মধ্যে ১৭ আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

advertisement

রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেছেন, টেকনাফে প্রথম দফায় আত্মসমর্পণকারী ১০১ জন ইয়াবা কারবারির বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশের ২টি মামলায় অভিযুক্তদের দোষী প্রমাণ করতে

advertisement 4

ব্যর্থ হয়েছে রাষ্ট্র। এতে দায়ের হওয়া ২টি মামলায় অভিযুক্তরা খালাস পাওয়ার যোগ্য হলেও এটা সামাজিকভাবে ভুল বার্তা যাবে। যেহেতু এরা সকলেই নিজেদের ইয়াবা কারবারি, গডফাদার হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন, তাই অস্ত্র মামলায় এদের খালাস দেওয়া হলেও মাদক মামলায় সাজা ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। বিচারক বলেছেন, এ রায় মাদক কারবারে জড়িতদের জন্য শিক্ষণীয় হিসেবে সাজা ও জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ফরিদুল আলম জানিয়েছেন, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন। রায় পাঠ শেষে ১০১ জনকে ইয়াবা মামলায় ১ বছর ৬ মাসের কারাদ- প্রদান করেন। এতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অবশ্যই প্রদান করার নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে পুলিশের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় সব আসামিকে খালাসের আদেশ দেন। রায় ঘোষণাকালে ১৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিল ৮৪ জন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবীও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এ রায় মাদক কারবারিদের জন্য একটি সতর্কবার্তা বলা যাবে।

ঘোষিত রায়ে ১০১ আসামি কারও নতুন করে সাজা ভোগ করার প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জিয়া উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, হাজতবাস সাজার অধীনে হওয়ায় নতুন করে সাজা ভোগ করতে হচ্ছে না কারও। এখানে প্রতি আসামি ২ বছরের কাছাকাছি হাজত বাস করেছেন। তবে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে করা ২০ হাজার টাকা জরিমানা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। তবে এ বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মন্তব্য করার কথা বলেছেন পিপি ফরিদুল আলম।

এদিকে মামলায় রায়ে শোকরিয়া প্রদান করেছেন সাজাপ্রাপ্তরা। রায় প্রদানকালে অনুপস্থিত আত্মসমর্পণকারী ইয়াবা কারবারি সাবেক সংসদ সদস্য বদির ভাই আবদুস শুক্কুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন।’

একই সঙ্গে মামলার রায় সংক্রান্ত একটি মন্তব্য করতে গিয়ে নোংরা ভাষায় সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইয়াবা গডফাদার হিসেবে সরকারের একাধিক তালিকায় থাকা উখিয়া-টেকনাফের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।

এ মামলার রায়ে সাজাপ্রাপ্তরা সবাই অপরাধী হিসেবে প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়াছুর রহমান। তিনি বলেছেন, রায়ে বলা হয়েছে তারা সবাই আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি-গডফাদার হিসেবে উল্লেখ করে সাজা ও জরিমানা প্রদান করা হয়। এতে সবাইকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

কক্সবাজার পিপলস্ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেছেন, সাজা ও জরিমানা উভয় কম হয়েছে। তবে আদালত বলেছে এটা প্রতীকী। এ রায় থেকে মাদক কারবারিদের শিক্ষা গ্রহণ জরুরি।

রায় শেষে প্রতিক্রিয়াকালে আসামি পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হুমকির কারণে নিজেরাই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছে। রায়ে তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন।

রায় ঘোষণাকালে আদালতে সাবেক এমপি বদির ভাই আবদুুর শুক্কুর, বদির ভাই আমিনুর রহমান ওরফে আবদুল

আমিন, দিদার মিয়া, বদির ভাগনে মো. সাহেদ রহমান নিপু, আবদুল আমিন, নুরুল আমিন, বদির ভাই শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক, বদির ভাই ফয়সাল রহমানসহ ৮৪ জন অনুপস্থিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ সদরের টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের উপস্থিতিতে ১০২ জন আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি ও গডফাদার সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০টি দেশি বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলিসহ আত্মসমর্পণ করেন। ওই দিনই আত্মসমর্পণকারী ১০২ জনকে আসামি করে টেকনাফ মডেল থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের দিনই আদালতের মাধ্যমে সকল আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ১০২ জন আসামির মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট মোহাম্মদ রাসেল নামে এক আসামি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তামান্ন ফারাহর আদালত ১০১ আসামির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল সকল আসামির উপস্থিতিতে শুনানি শেষে মামলার চার্জগঠন করেন। বিচার শেষে ১৫ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

advertisement