advertisement
advertisement
advertisement
advertisement

প্রতি ১১ মিনিটে একজন নারী খুন হন
সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো দরকার

২৫ নভেম্বর ২০২২ ১২:০০ এএম
আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২২ ১০:৪৮ পিএম
advertisement

আজ নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ দিবস। এই দিবস উপলক্ষে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বে প্রতি ১১ মিনিটে একজন নারী তার পরিবারের সদস্যদের হাতে খুন হন। অথচ পরিবারের সদস্যরা আপনজন আর তাদের হাতে যদি খুন হতে হয় তা হলে আমাদের মানবিকতা দিন দিন কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। নৈতিক অবক্ষয় দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমাদের দেশেও ক্রমাগত ঘটছে খুনের ঘটনা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব-কলহের কারণে অবলীলায় খুন হচ্ছে মানুষ। অবক্ষয়, অসহিষ্ণু মনোভাব, নির্মমতা, অমানবিকতা, নীতিহীনতা দিন দিন আমাদের সমাজে যেভাবে চেপে বসছে তাতে আতঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে পারিবারিক হত্যাকা-। যা কারও কাম্য নয়। বাবা-মায়ের হাতে সন্তান হত্যার ঘটনা যেমন ঘটছে, তেমনি সন্তানের হাতে জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রাণহানিও ঘটছে। পরকীয়ার কারণে স্বামীর হাতে স্ত্রী এবং স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন হওয়ার ঘটনাও কম নয়। এক ভাই আরেক ভাইকে হত্যা করছে। দেখা যায় প্রতিটি ঘটনাই মামুলি বা তুচ্ছ কোনো কারণে। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। মানুষের মূল্যবোধের অবক্ষয়, সহনশীলতা কমে যাওয়া ও সামাজিক অনুশাসনের অভাবে এ ধরনের নৃশংসতার প্রবণতা বাড়ছে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে পরিবারের পাশাপাশি সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো দরকার। বিশেষ করে নারীর প্রতি যে সহিংসতা বাড়ছে তা বেশ উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, নারীদের বিরুদ্ধে এই সহিংসতা মানবাধিকারের সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন। বিভিন্ন দেশের সরকারকে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠিন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য নারী স্বাধীনতা ও নারীদের মৌলিক অধিকারগুলোকে আরও বেশি করে সম্মান দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এ সমস্যার সমাধান করতে সরকারগুলোকে উদ্যোগী হতে হবে। নারী সহিংসতাকারীদের এমনভাবে শাস্তি দেওয়া হোক যাতে যেন আর কোনোভাবেই এমন নৃশংসতার কথা কেউ চিন্তাও করতে না পারে। যা দেশ এবং মানুষের জীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার স্বার্থেই জরুরি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান না করলে একের পর এক এ ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আমরা প্রত্যাশা করি, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক যেন এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ হয়।

advertisement
advertisement