advertisement
advertisement
advertisement

জেগে উঠেছে বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি, ছাইয়ে ঢাকা পড়তে পারে পুরো দ্বীপ

অনলাইন ডেস্ক
৩০ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৩ পিএম | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০২২ ১২:১৪ পিএম
পুরোনো ছবি
advertisement

৩৮ বছর পর আবার জেগে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউনা লোয়া। আমেরিকার হাওয়াই দ্বীপের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি থেকে রোববার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাভা উদ্গীরণ শুরু হয়।

মাউনা লোয়া আগ্নেয়গিরি হাওয়াই দ্বীপের প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে রয়েছে। ১৮৪৩ সাল থেকে এই আগ্নেয়গিরি এখন পর্যন্ত মোট ৩৩ বার জেগে উঠেছে। ১৯৮৪ সালে শেষ বার মাউনা লোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। এর পর দীর্ঘ ৩৮ বছর শান্ত থেকেছে মাউনা লোয়া।

advertisement

ভূতত্ত্ব বিভাগের দাবি, মাউনা লোয়া আগ্নেয়গিরি অস্থিরতার উচ্চ সীমায় রয়েছে। গত কয়েক মাসে ওই এলাকায় ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধিকেই এর কারণ হিসাবে দেখছেন ভূতত্ত্ববিদরা।

advertisement 4

আমেরিকার সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুনে ৫ থেকে ১০ বার এই অঞ্চলে ভূমিকম্প হয়েছে। জুলাই ও আগস্ট মাসে কমপক্ষে ২০ বার ভূমিকম্প হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ভূমিকম্পের সংখ্যা ১০০ পার করেছে।

অগ্ন্যুৎপাত শুরুর পর আগ্নেয়গিরির এক পাশ থেকে লাভা প্রবাহ শুরু হয়েছে। এই লাভার প্রভাবে হাওয়াই জাতীয় উদ্যানের বসতির ওপর পড়বে না বলেও সোমবার দুপুরে আমেরিকার ভূতাত্ত্বিকরা জানিয়েছেন। তবে আপাতত পর্যটকদের জন্য বন্ধই রাখা হচ্ছে জাতীয় উদ্যান। পাহাড়ে ট্রেকিং করতে যাওয়ার ওপর জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

আমেরিকার ভূতত্ত্ব বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের লাভা প্রধানত উত্তর-পূর্বের এলাকাগুলিকে প্রভাবিত করবে। কিন্তু উত্তর-পূর্বে আগ্নেয়গিরির কাছে বসতি না থাকায় সে রকম কোনো চিন্তার কারণ নেই। তবে, আগ্নেয়গিরির গ্যাস এবং সূক্ষ্ম ছাই হাওয়ার কারণে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে।

হনুলুলুর ‘ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস’জানিয়েছে, দ্বীপের অনেকাংশই ছাইয়ের আস্তরণে ঢাকা পড়বে। তবে সেই ছাইয়ের আস্তরণ হাফ ইঞ্চির কম পুরু হবে।

মাউনা লোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বিমান চলাচলে ব্যঘাত ঘটতে পারে। আর সেই কারণে হিলো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ওঠার আগে বিমান পরিবহন সংস্থার সঙ্গে বিমান ওড়ার বিষয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লাভার ফলে তৈরি হওয়া ছাই যানবাহন, বাড়ি, গাছপালার ক্ষতি করতে পারে। দূষিত হতে পারে পরিবেশ।  পাশাপাশি বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাও ব্যাহত হতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। লাভার ফলে সৃষ্ট ছাইয়ে চোখ এবং ফুসফুসে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে বলেও স্থানীয় হাওয়া অফিস জানিয়েছে।

হনলুলু প্রশাসন সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যাতে শ্বাসকষ্ট রয়েছে এমন মানুষেরা যাতে বাড়ির বাইরে না বের হয়। বাইরে বের হলে মাস্ক পরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

advertisement