advertisement
advertisement
advertisement

নতুন শিক্ষাক্রম, ভুলভ্রান্তি নাকি বিভ্রান্তি

পাঠকের কলাম

লিটন দাশ গুপ্ত
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:১০ পিএম
advertisement

বেশ কয়েকদিন যাবৎ ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের ভুলভ্রান্তি নিয়ে। এতে করে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক কিংবা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষ মূল বিষয়টি না বুঝে বা বোঝার চেষ্টা না করে, শোনা কথা বা গুজব নিয়ে প্রচার করতে বেশি অভ্যস্ত। যা কিনা কাকে কান নেওয়ার মতো অবস্থা! যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় ছোট বিষয়টাও অনেক বড় আকারে রূপ নেয়। না, নতুন শিক্ষাক্রমের পাঠ্যপুস্তকে একেবারেই ভুলভ্রান্তি হয়নি, তা কিন্তু বলছি না। কথা হচ্ছে, ভুল হয়েছে মানে কী ধরনের ভুল হয়েছে, ভুলটা কি সংশোধনযোগ্য? ভুলের মাত্রাটা ধর্মীয়-রাষ্ট্রীয় নীতিতে কিংবা সর্বসাধারণের মধ্যে প্রভাব পড়ছে? কিন্তু নতুন এই শিক্ষাক্রমে তা হয়নি। হয়েছে কী; ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে কয়েকটা বানান ভুল আর সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ে ‘ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট’ থেকে তথ্য নিয়ে সংযোজিত হয়েছে।

প্রথমে আসি ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি বইয়ে বানান ভুল বিষয়ে। যা বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। তার আগে বলে রাখি, শিক্ষাক্রম প্রণয়নের আগে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে রচনা সম্পাদনা করা উচিত। যাতে কোনোক্রমেই কোনো প্রকার ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি না থাকে। কিন্তু তার পরও দেখা যায়, বিপুলসংখ্যক পাঠ্যপুস্তকে বিষয়বস্তু সংযোজন-বিয়োজন মুদ্রণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় দু-একটা ভুল থেকে যায়। প্রথম বছরে বা পরীক্ষণমূলক সংস্করণে এই ধরনের ছোটখাটো ভুল দৃষ্টির অগোচরে থেকে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। পরের বছর পরিমার্জন করা হলে পাঠ্যবইয়ের এই ধরনের ভুল বা অসংগতি সংশোধন করা যায়। তার পরও অতি উৎসাহী একটি মহল অতিমাত্রায় সরব হয়েছে। তাই তারা ষষ্ঠ শ্রেণির এই বইয়ে বিভিন্ন জায়গায় কেন-কেনো, পড়-পড়ো, যে কোন- যেকোন, এছাড়া-তাছাড়া ইত্যাদিকে ভুলের সংখ্যা হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রচার করে যাচ্ছে।

advertisement

অন্যদিকে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠের প্রথম অধ্যায়ের ৩য় পৃষ্ঠায় জীববৈচিত্র্যের ধারণা দিতে গিয়ে ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে ইন্টারনেট থেকে হুবহু কপি পেস্ট করে কেন উপস্থাপন করা হয়েছে। আমাদের দেশে শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হলে শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিষয়বস্তু নিয়ে ভাবেন, কীভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষণ-শিখন প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ করা যায়। আবার অন্যদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ আছে, যারা অপেক্ষায় থাকে নতুন শিক্ষাক্রম কখন আসবে, কোনো প্রকার ভুল পাওয়া যায় কিনা কিংবা কোনো বিষয়বস্তুকে বিতর্কিত করা যায় কিনা!

advertisement 4

এখানে আবারও বলছি, ভুল হয়নি তা বলছি না। আমিও চাই বোর্ডের বই অতিমাত্রায় সতর্কতার সঙ্গে ছাপা হোক। আমাদের সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের মধ্যে প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, পাঠ্যবইয়ে শতভাগ সঠিক। তাই যে কোনো শব্দ বাক্য যতিচিহ্ন ভুল মনে হলে, পাঠ্যবইয়ের সাহায্য নেওয়া হতো। আমিও চাই সেই পুরনো বিশ্বাস আবার ফিরে আসুক। কিন্তু কথা হচ্ছে, সামান্য ভুল, ছোটখাটো ত্রুটি-বিচ্যুতি বড় করে উপস্থাপন করে, রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা করা উচিত নয়।

লিটন দাশ গুপ্ত : শিক্ষক ও আইনজীবী, ঢাকা

advertisement