advertisement
advertisement
advertisement

ডিসিদের ২৫ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৫২ পিএম
advertisement

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, কল্যাণকর মাঠ প্রশাসন গড়া, সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা, কোনো মানুষকে গৃহহীন না রাখা, অনাবাদি জমি কমিয়ে এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবস্থাগ্রহণসহ জেলা প্রশাসকদের ২৫টি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

advertisement

গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিজ কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন। বিভাগীয় কমিশনারদের পক্ষে রাজশাহীর জিএসএম জাফরুল্লাহ এবং জেলা প্রশাসকদের পক্ষে নরসিংদীর আবু নাঈম মোহাম্মদ মারুফ খান ও বান্দরবানের ইয়াসমিন পারভিন তিবরিজি বক্তব্য রাখেন।

advertisement 4

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক উন্নত দেশও মন্দায় পড়ার ঘোষণা দিয়েছে। কাজেই আমাদের যেন সেটি করতে না হয়, সে জন্যই আমরা কৃচ্ছ্রতার ঘোষণা দিয়েছি, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলেছি এবং এ ব্যাপারে আপনারা সচেতন থাকবেন।’ সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি

প্রকল্প স্থানীয়দের জন্য কতটুকু কার্যকর, তা ডিসিদের বিবেচনা করতে হবে। শুধু পয়সা খরচের প্রকল্প পছন্দ করি না।’

ইভিএমে বরাদ্দ দিতে না পারার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর্থিক সংকট অবশ্যই বিশ^ব্যাপী আছে। আমাদেরও আছে। কিন্তু এমন পর্যায়ে নেই যে আমরা চলতে পারব না। আমাদের অগ্রাধিকার আমাদেরই বিবেচনা করতে হবে। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে যা খরচ লাগে, আমরা করব।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসকদের একটা কথাই বলব- আমি আসার (ক্ষমতায়) পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আন্তরিকতা সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবর্তন আমি দেখেছি আপনাদের মাঝে। আর সেটি যদি না হতো বাংলাদেশের উন্নয়নের যতটুকু কাজ আমরা করতে পেরেছি বা সফলতা পেয়েছি, সেটি সম্ভব হতো না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘

বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে ডিসিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের জনগণের সেবক হতে হবে। আমরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে যতটুকু সুযোগ-সুবিধা পাই, কিংবা আপনারা আমলা হিসেবে যে সুযোগ-সুবিধা পান, এগুলোর অবদান কিন্তু জনগণের।’

২৫ নির্দেশনা

১. খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। পতিত জমিতে ফসল ফলাতে হবে। কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে;

২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে;

৩. সরকারি অফিসসমূহে সাধারণ মানুষ যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বিঘেœ যথাযথ সেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. সরকারি তহবিল ব্যবহারে কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হবে;

৫. এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনে তৎপরতা জোরদার করতে হবে;

৬. দেশে একজনও ভূমিহীন ও গৃহহীন থাকবে না। গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে যেন প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষ সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে;

৭. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে;

৮. কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র যেন কার্যকর থাকে, তা প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে;

৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে;

১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা-উপজেলায় পার্ক ও খেলার মাঠ সংরক্ষণে উদ্যোগ নিতে হবে;

১১. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে;

১২. সরকারি দপ্তরসমূহের ওয়েবসাইট নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে। নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য ওয়েবসাইটে তুলে ধরতে হবে;

১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে কাজ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে;

১৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেন কোনোভাবেই অবনতি না হয়, সেদিকে নজরদারি জোরদার করতে হবে;

১৫. গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে;

১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যাতে জঙ্গিবাদে জড়িত না হয়, সে জন্য সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে মুক্ত রাখতে হবে;

১৭. বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে;

১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে, কৃত্রিম সংকট রোধকল্পে ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে;

১৯. সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ভূমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের উদ্দেশে নতুন সরকারি প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণকে প্রাধান্য দিতে হবে;

২০. নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা বাড়াতে হবে। সøুইচগেট বা অন্য কোনো কারণে যেন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষ করে জলাবদ্ধতার জন্য যেন উৎপাদন ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে;

২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে;

২২. পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন নতুন পর্যটন স্পট গড়ে তুলতে হবে;

২৩. জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যসমূহের প্রচার, বিপণন ও ব্র্যান্ডিং করতে হবে;

২৪.জনস্বার্থকে সব কিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সেবার মনোভাব নিয়ে যেন সরকারি দপ্তরগুলো পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যে মনিটরিং জোরদার করতে হবে;

২৫. জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রমসমূহ যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আপনাদের ব্রতী হতে হবে।

advertisement