advertisement
advertisement
advertisement

শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ ১১:৫২ পিএম
advertisement

দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদে। তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ হচ্ছে ১৬ হাজার ৫৮৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করেন। সরকারি দলের সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান সরকারের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন তিনি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী দেশের মোট ঋণখেলাপির

advertisement

সংখ্যাও জানান। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ঋণখেলাপির সংখ্যা ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৫ জন।

advertisement 4

অর্থমন্ত্রী জানান, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির মধ্যে সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৩২ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং খেলাপি ঋণ এক হাজার ৬৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৮৫৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং তাদের খেলাপি ঋণ এক হাজার ৫২৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ঋণের স্থিতি এক হাজার ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এদের পুরোটাই খেলাপি ঋণ। এ ছাড়া রাইজিং স্টিল কোম্পানি লিমিটেডের ৯৯০ কোটি ২৮ লাখ, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ৯৬৫ কোটি ৬০ লাখ, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেডের ৮৭৩ কোটি ২৯ লাখ, ক্রিসেন্ট লেদার্স প্রডাক্ট লিমিটেডের ৮৫৫ কোটি ২২ লাখ টাকা, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেডের ৮১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, সাদ মুসা ফেব্রিক্স লিমিটেডের ৭৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, বিআর স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ৭২১ কোটি ৪৩ লাখ, এসএ অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ৭০৩ কোটি ৫৩ লাখ, মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ৬৬৩ কোটি ১৮ লাখ, রেডিয়াম কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের ৬৬০ কোটি ৪২ লাখ, সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের ৬৫১ কোটি ৭ লাখ, মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেডের ৬৪৭ কোটি ১৬ লাখ, আশিয়ান এডুকেশন লিমিটেডের ৬৩৫ কোটি ৯৪ লাখ, এসএম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের ৬৩০ কোটি ২৬ লাখ, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স লিমিটেডের ৬২৩ কোটি ৩৪ লাখ, এহসান স্টিল রি-রোলিং লিমিটেডের ৫৯০ কোটি ২৩ লাখ এবং সিদ্দিকী ট্রেডার্সের ৫৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে

বৈদেশিক ঋণ : সরকারি দলের হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে (২০২২-২৩) আইএমএফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরে বিশ্বব্যাংক থেকে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ পাওয়া গেছে। এই ঋণ ৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে চলতি অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জাপান সরকার ৯২১ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

সংরক্ষিত আসনের সদস্য নাজমা আকতারের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সংসদকে জানান, কৃষিঋণের সুদ মওকুফের কোনো পরিকল্পনা নেই। এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, ব্যাংক আমানতকারীদের নিকট থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কৃষকদের ঋণ দেয়। আমানতকারীদের ব্যাংকের সুদ দিতে হয় বলে প্রচলিত নিয়মে ব্যাংকের পক্ষে কৃষকদের মাঝে দেওয়া ঋণের সুদ মওকুফ করা সম্ভব হয় না। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের উত্তরে ডলার সংকট কমাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা সংসদে তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, ডমেস্টিক ব্যাংকিং ইউনিট (স্থানীয় ব্যাংক)-কে তাদের অফশোর ব্যাংকিং অপারেশন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল সংগ্রহের প্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে, যা ৩০ জুন ২০২৩ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

রমজান মাসে ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল, মটর, পেঁয়াজ, মসলা, চিনি ও খেজুরের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখাসহ পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে এসব পণ্য ৯০ দিনের বিলম্ব মূল্য পরিশোধ ব্যবস্থায় আমদানির সুযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী, যা ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে ওই দেশের মুদ্রার সঙ্গে লেনদেনের সুযোগ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এম আবদুল লতিফের আরেক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টাকার অঙ্কে ১২ হাজার ৩৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রয়ের পরিমাণ ১ লাখ ৩ হাজার ৬৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০২০-২১ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৯১ হাজার ২৬৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, করোনার শুরুতে সব তফসিলি ব্যাংককে করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের আওতায় বিশেষ সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়। তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলোর জানুয়ারি-জুন ২০২২ সময়ে সিএসআর কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ ব্যয়কারী ১০টি ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক ২০২ কোটি ১৯ লাখ, ডাচ-বাংলা ৩৯ কোটি ৭ লাখ, দি প্রিমিয়ার ব্যাংক ২৯ কোটি ৯৫ লাখ, এক্সিম ব্যাংক ২৮ কোটি ৩৯ লাখ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ২২ কোটি ১৬ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ২১ কোটি ৬৫ লাখ, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১৯ কোটি ৮১ লাখ, ঢাকা ব্যাংক ১৪ কোটি ৯৬ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ১৪ কোটি ৬৩ এবং ব্র্যাক ব্যাংক ১৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় করে।

ময়মনসিংহ-১১ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ডলার রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৯ ?বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুন নেসা খানের প্রশ্নের জবাবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের কিছু সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কর্তৃক পাচার সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু মামলা চলমান রয়েছে। অর্থপাচার সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ বা তথ্য প্রাপ্ত হলে বিএফআইইউ আইনের বিধান অনুযায়ী ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদন’ প্রণয়ন করে তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থায় প্রেরণ করে থাকে।

বিএফআইইউ থেকে গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্তকার্য সম্পাদনপূর্বক প্রয়োজনীয় বিচারিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করে থাকে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করার ঘটনা দুর্নীতি দমন কমিশন কর্তৃক এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করার ঘটনা বর্তমানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক তদন্ত করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া হুন্ডি বা অন্য কোনো উপায়ে অর্থপাচার হলে তা বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি কর্তৃক তদন্ত করা হয়ে থাকে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আইনের বিধান অনুসারে বৈধ বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তি নিয়মবহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচার মানিলন্ডারিং অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ বাংলাদেশে ফেরত আনার লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স পাচারকৃত অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা আইন, ২০১২ জারি করা হয়েছে। ওই আইনের আওতায় অপরাধ সম্পর্কিত বিষয়ে পারস্পরিক সহায়তা প্রদানকল্পে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্ধারণ করা হয়েছে।

advertisement