advertisement
advertisement
advertisement

জেলেনস্কির সহচররা তবে তস্কর ছিলেন?

জাহাঙ্গীর সুর
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৮:৫৭ এএম
advertisement

‘বেটা সাধুবেশে পাকা চোর অতিশয়’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘দুই বিঘা জমি’র উপেনকে উল্টো এ অপবাদ শুনতে হয়েছিল ভূস্বামীর কাছ থেকে। কিন্তু কাহিনির অপবাদ নয়, বাস্তবে এমন অভিযোগ উঠেছে ইউক্রেনের অন্তত এক ডজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

ইউক্রেনের অখণ্ডতা রক্ষায় মনের জোরে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিলে যখন লড়াই করছে সাধারণ মানুষ, সেই যুদ্ধের কালেও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্লজ্জ দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন তলে তলে। আঁচ পেতে দেরি করলেও শেষাবধি জনতার জোরালো দাবি ও অব্যাহত আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ভলোদিমির জেলেনস্কি ১২ সহচরীকে পদচ্যুত করেছেন।

advertisement

বিবিসি জানিয়েছে, মঙ্গলবার ১১ জন পদত্যাগ করেছেন। এ সপ্তাহেই আরেকজন বহিষ্কৃত হয়েছেন। এ ১২ জনের মধ্যে একজন প্রেসিডেন্টের মুখ্য পরামর্শক, একজন উপপ্রধান কৌঁসুলি, পাঁচজন উপমন্ত্রী ও পাঁচজন আঞ্চলিক গভর্নর রয়েছেন। আমাদের সময়ের পক্ষে স্বতন্ত্রভাবে এদের সবার পদত্যাগের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে, স্থানীয় গণমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেডেন্ট বেশ কয়েকজনের পদত্যাগের প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

advertisement 4

পদচ্যুতদের মধ্যে উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রীও আছেন। এবং স্বয়ং প্রতিরক্ষামন্ত্রী নজরদারির মধ্যে রয়েছেন। ফলে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের সামরিক প্রতিরোধের গতিপথ বদলে যাবে কি না, এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের ওপর সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে এ সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়। আক্রান্ত দেশটি ও এর ইউরোপীয় ও পশ্চিমা মিত্ররা একে যুদ্ধ বললেও মস্কো একে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ বলেই অভিহিত করে আসছে।

নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোয় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সম্ভাব্য সম্প্রাসরণে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় নিরাপত্ত হুমকির মুখে পড়ছে- এ চিন্তা থেকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১১ মাসের যুদ্ধে দুই দেশেরই অনেক সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, ঝরেছে ইউক্রেনের অনেক বেসামরিক মানুষরে প্রাণ।

কিন্তু সম্প্রতি জেলেনস্কি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের বিরুদ্ধে ঘুষগ্রহণ, পছন্দের কোম্পানি থেকে অতিরিক্ত দরে খাদ্যপণ্য কেনা ও বিলাস জীবনযাপনের অভিযোগ উঠেছে।

জেলেনস্কির শীর্ষ সহযোগী মিখাইলো পোডোলিয়াক বলেছেন, জনতার দাবি হলো সবার জন্য আইন সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে, প্রেসিডেন্ট সেই দাবি মেনেই পদক্ষেপ গগ্রহণ করেছেন। অনুমোদিত সফর ছাড়া সরকারি কর্তাদের দেশের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করেছেন।

মঙ্গলবার প্রথম পদত্যাগ করেন মুখ্য পরামর্শক কিরিলো টিমোশেঙ্কো। তিনি প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের উপপ্রধান। তিনি আঞ্চলিক নীতি নিয়ে কাজ করতেন। এর আগে জেলেনস্কির নির্বাচনী প্রচারশিবিরের হয়ে কাজ করেছেন তিনি। রুশ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর তিনি ইউক্রেন সরকারের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে আবির্ভূত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুদ্ধের মধ্যেও ব্যয়বহুল গাড়ি ব্যবহার করছেন।

উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ভিয়াচেস্লোভ শাপোভালোভ পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে কম পরিচিত তবে পছন্দের কোম্পানি থেকে চড়া দরে সেনাদের জন্য খাদ্যপণ্য কেনার অভিযোগ উঠেছে। একই অভিযোগ উঠেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওলেকসি রেজনিকভের বিরুদ্ধে, তবে তিনি গতরাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পদত্যাগ করেননি বা পদচ্যুত হননি।

মঙ্গলবার আর যারা পদচ্যুত হয়েছেন, তারা হলেন : উপপ্রধান কৌঁসুলি ওলেসকি সিমোনেঙ্কো, সম্প্রদায় ও অঞ্চলবিষয়ক উপমন্ত্রী ইভান লুকারিউ ও ভিয়াচেস্লোভ নেগোডা, সামাজি নীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী ভিটালি মুজেচেঙ্ক এবং নিপ্রোপেত্রোভস্ক, জাপোরিজিয়া, কিয়েভ, সুমি ও খেরসনের আঞ্চলিক গর্ভনররা।

ইউক্রেনে দুর্নীতির ইতিহাস আছে। ২০২১ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্ট্যারন্যাশনালের ১৮০ দেশের তালিকায় দুর্নীতিরাষ্ট্র হিসেবে দেশটির অবস্থান ছিল ১২২। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদস্যপদ প্রাপ্তিতে দেশটির পিছিয়ে থাকার এটি অন্যতম বড় কারণ।

এর আগে বহিষ্কৃত ও আটক হয়েছেন অবকাঠামোবিষয়ক উপমন্ত্রী বাসিল লোজিনস্কি। বিদ্যুৎ প্রকল্পে সাড়ে তিন লাখ মার্কিন ডলার ঘুষগ্রহণের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনিসহ পদচ্যুত প্রত্যেক কর্তাই তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।জেলেনস্কির সারভেন্ট অব দ্য পিপল পার্টির প্রধান ডেভিড আরখামিয়া বলেছেন, দুর্নীতিপর এসব কর্তা কারাগারে পচবেন।

advertisement