advertisement
advertisement
advertisement

চার লেনের প্রতিশ্রুতি আছে, প্রকল্প নেই

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক

হামিদ উল্লাহ,চট্টগ্রাম
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ১০:০৮ এএম
ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ কালুরঘাট ব্রিজে বাড়ছে দুর্ঘটনা। আগামী জুনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ চালু হলে এ সেতু হয়েই চলাচল করবে ট্রেন। সেতু পারাপারের ছবিটি গতকাল বিকালের - এস এম তামান্না
advertisement

নামে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক হলেও ১৫৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়কটির ৪০ কিলোমিটার এতদিন ছিল মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত। অবশিষ্ট অংশের প্রশস্ততা ৩৪ ফুট। গত ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে এবং ৭ ডিসেম্বর কক্সবাজারের পৃথক মহাসমাবেশে মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে একই প্রতিশ্রুতি দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অথচ চারলেনে সড়কটি সম্প্রসারণের কোনো প্রকল্প সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নেই। এমনকি পুরো সড়ক নিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইও করেনি দেশি বা বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের যানজটপূর্ণ এলাকায় চারটি বাইপাস এবং একটি ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার, যেখানে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা অর্থায়ন করতে সম্মত হয়েছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, ঋণচুক্তি, দরপত্র আহ্বান ও কার্যাদেশসহ সব কাজ দ্রুত হলেও এ চার বাইপাস ও এক ওভারপাস নির্মাণের কাজ শুরু করতে আগামী দুবছর সময় লেগে যাবে। এর মধ্যে পটিয়া বাইপাস চারলেনে উন্নীত করা, নতুন করে দোহাজারী, আমিরাবাদ ও চকরিয়ায় বাইপাস এবং কেরানিহাটে ওভারপাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

advertisement

জাইকা এ প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হওয়ায় সরকার প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের অবশিষ্ট অংশ সম্প্রসারণের কাজটিও যেন জাইকা করে দেয়। এ নিয়ে জাপানি সংস্থাটি এ নিয়ে হ্যাঁ বা না কিছুই বলছে না বলে জানান সওজের কর্মকর্তারা। জাইকার সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়ায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কিংবা বিশ্বব্যাংক এ ব্যাপারে আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

advertisement 4

এর মধ্যে ২০২৬ সালে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হওয়ার কথা। মাতারবাড়ি থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর পর গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে কনটেইনার ও কাভার্ডভ্যানে পণ্য সরাদেশে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু চারলেন বা ছয় লেনে সড়কটি সম্প্রসারণ না কলে এসব পণ্য কীভাবে পরিবহন হবে তা নিয়ে কোনো বক্তব্য কারও নেই।

চার বাইপাস ও এক ওভারপাস প্রকল্পের কর্মকর্তা, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শ্যামল ভট্টাচার্য আমাদের সময়কে বলেন, এ প্রকল্পে অর্থায়নে জাইকা প্রাথমিকভাবে রাজি হয়েছে। তারা নিজেদের মতো করে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ওটা আমরা এখনো পাইনি। আগামী এক মাসের মধ্যে তা পাওয়া গেলে আমরা প্রকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনা (ডিপিপি) প্রণয়ন করব। মার্চে জাইকার সঙ্গে ঋণচুক্তির কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ১৬৯ কিলোমিটারের মধ্যে নগরীর বহদ্দারহাট মোড় থেকে শিকলবাহা ওয়াই জংশন পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার শহর থেকে লিংক রোড বাঁকখালী নদী পর্যন্ত আরও ১০ কিলোমিটার সড়ক ইতোমধ্যে চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন চারটি ওভারপাসের কাজ শেষ হলে আরও ২৪ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে সম্প্রসারিত হবে। এর বাইরে ক্রস বর্ডার প্রকল্পের আওতায় চারটি সেতুর সঙ্গে যুক্ত আরও ৫ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ৪৯ কিলোমিটার সড়ক চারলেন করার প্রকল্প হাতে আছে। সওজ সূত্র জানায়, দীর্ঘসূত্রতার কারণে অবশিষ্ট ১১০ কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করতে হলে নতুন করে ২০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিকলবাহা ওয়াই জংশন থেকে পটিয়া বাইপাস সড়ক পর্যন্ত অংশটি সরকারি অর্থায়নে ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সওজের দোহাজারী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আমাদের সময়কে বলেন, ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩৪ ফুটে উন্নীত করার প্রথম ধাপের কাজ শেষদিকে রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে বিজিসি ট্রাস্ট থেকে সাতকানিয়া কেরানীহাট পর্যন্ত অংশটি ৩৪ ফুট প্রশস্ত করা যাবে। তবে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয়লেনে উন্নীত করার চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বশেষ ২০১৯ সালে জাপান সফরে গেলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের আওতায় জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়। তখন মারুবিনি করপোরেশন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে টোল সড়ক হিসেবে চারলেনে উন্নীত করতে সম্মত হয়। সরকার শুরুতে তাতে সম্মতি দিলেও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এটা জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা বা বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অসন্তুষ্টির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা এ মহাসড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ নিয়ে ধীরে চলো নীতি নেয়। কিন্তু জাপানের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার অন্য কোনো দাতা সংস্থার সঙ্গেও আলোচনা করতে পারছে না। আবার কৌশলগত কারণে দক্ষিণমুখী এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীনের বিনিয়োগও চায় না সরকার।

advertisement