advertisement
advertisement
advertisement

ফেসবুকেও তাদের আয় লাখ টাকা!

শিমুল আহমেদ
২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০২:২৩ পিএম | আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ ০৬:৪০ পিএম
তারকাশিল্পীরা
advertisement

শোবিজ তারকারা সারা বছরই ব্যস্ত থাকেন নিজ নিজ অঙ্গনের কাজ নিয়ে। সিনেমার শিল্পীরা যেমন পারিশ্রমিক নিয়ে কাজ করেন, নাটকের শিল্পীদের ক্ষেত্রেও তাই। এর মধ্যে সংগীত ও মঞ্চের হিসাবটা একটু ভিন্ন। সময়ের জনপ্রিয় অনেক সংগীতশিল্পী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি নিজ খরচে গান প্রকাশ করে থাকেন। আর মঞ্চ তারকাদের আয়ের উৎস চার দেয়ালেই বন্দি।

বর্তমানে জনপ্রিয় তারকাশিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন সুপারস্টার শাকিব খান, রকস্টার জেমস, পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, অভিনেতা মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল, আরিফিন শুভ, জিয়াউল ফারুক অপূর্ব, আফরান নিশো, সিয়াম আহমেদ, চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস, জয়া আহসান, নুসরাত ইমরোজ তিশা, বুবলী, মেহজাবীন চৌধুরী, পরী মণি, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, বিদ্যা সিনহা মিম, শরীফুল রাজ, গায়ক আসিফ, ইমরান, কণা, বর্ষা, তানজিন তিশা, সাফা কবির, তাসনিয়া ফারিণ, সুবাহ শাহ হুমায়রাসহ অনেকে।

advertisement

এসব তারকারা নিজ নিজ অঙ্গনে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের আয়ও কম নয়। তবে এর মধ্যে কারো পারিশ্রমিক বেশি আবার কারো কম। কিন্তু তাদের বাড়তি আয়ের আরেকটা উৎস হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অবশ্য এখানেও কিছু কথা আছে। জনপ্রিয় অনেক তারকা আছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত নন। তবে তাদের সংখ্যা হাতেগোনা।

advertisement 4

ইন্টারনেটের এই যুগে সবাইকে এখন হাতের মুঠোয় পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফেসবুকে, না হয় ইনস্টাগ্রামে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জনপ্রিয় তারকারা মাসে অনন্ত ২০০ ডলার আয় করে থাকেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে।

বলা যায়, প্রতি মাসে না হলেও বাংলাদেশি মুদ্রায় তাদের আয় হয় প্রায় ২১ হাজার টাকা। আর এটা একেবারে সর্বনিম্ন। এই আয় অনেকের ক্ষেত্রে ১০০০ ডলারের বেশি, যা টাকার অঙ্কে দাঁড়ায় লাখের ওপর। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। তারা আয়ের পথ ঠিক রাখার (ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম দেখার জন্য) দায়িত্বে আছেন অন্য কোনো জন। নাম প্রকাশ না করে বলতে হয়, বেশিরভাগ তারকারা আয়ের এই উৎস যুক্ত করেই সরকারকে ট্যাক্স পরিশোধ করছেন।

কথ্য ভাষায় বললে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই আয় ‘পুরোই ফাউ’। দেখা যাচ্ছে শিল্পীরা ঘুরতে গেছেন কোনো স্থানে, সেখানেই একটি ভিডিও করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে কোনো অনুষ্ঠান স্থল থেকে কিংবা শুটিংয়ের ফাঁকেও ভিডিও করা হয়। আর সেসব ভিডিও ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করে আয় করেন তারা। কারণ ভিডিওগুলো প্রকাশের পরপরই ভক্ত-দর্শকরা তা লুফে নেয়।

একটা সময় ছিল- বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য নিয়ে ফেসবুকে হাজির হতেন শিল্পীরা। ছবি বা ভিডিওর মাধ্যমে সেসব পণ্য তুলে ধরতেন সবার সামনে। তবে এখন সেই প্রথা থেকে বেরিয়ে এসেছেন শিল্পীরা। শুধুমাত্র কোনো প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছদূত হলে বা বিজ্ঞাপনে চুক্তিবদ্ধ হলে পণ্যের প্রচারণায় অংশ নেন তারা।

অপরদিকে মঞ্চ তারকাদের দুঃখ কিন্তু এখনও শেষ হয়নি। তাদের আয় আটকে আছে নিজেদের গণ্ডিতেই। তারা যদি মঞ্চের পরিচিতি দিয়ে টিভি-সিনেমাতে নাম লেখান, সেক্ষেত্রে ভিন্ন কথা!

এ বিষয়ে বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘মঞ্চের শিল্পীদের করুণ অবস্থা। শিল্পীরা মঞ্চে নাটক পরিবেশন করে ঠিকমতো সম্মানি পায় না। সেখানে ফেসবুক থেকে বাড়তি আয় এটা ভাবাও দুঃস্বপ্ন। যে কারণে এই অঙ্গনের শিল্পীদের প্রায়ই সরকারি আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। এমন অনেক দুঃখ আছে শিল্পীদের মনে। এক কথায় বললে, মঞ্চের শিল্পীরা অবহেলিত।’

এদিকে অনেক গায়ক আছেন যারা নিজ খরচে নতুন গানের ভিডিও প্রকাশ করেন ফেসবুকে। সেই ভিডিও আবার প্রকাশ হয় তাদের ইউটিউব চ্যানেলেও। তা থেকে যা আয় হয়, তাতে খরচ ওঠে এলেও লাভ থাকে সামান্যই। আর যদি অন্য প্রতিষ্ঠানের (অডিও-ভিডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো) হয়ে নতুন গান প্রকাশ করে থাকেন তাহলে সেই ভিডিওর থেকে আসা আয় চলে যায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে। তবে বাড়তি আয়ের উৎস হিসেবে স্টেজ শো তো রয়েছেই। ফলে বলা যায়, ফেসবুক থেকে কিছুটা হলেও লাভের মুখ দেখতে পান তারা।

advertisement