advertisement
advertisement
advertisement

নোবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি চেয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ০৫:০৭ পিএম | আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ ০৫:৩১ পিএম
নোবিপ্রবিতে রেজিস্ট্রারের অব্যাহতি চেয়ে কর্মবিরতি পালন। ছবি: আমাদের সময়
advertisement

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) রেজিস্ট্রার জসিম উদ্দিনের অব্যাহতি চেয়ে ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সংগঠন নোবিপ্রবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নে একদিনের কর্মবিরতি ঘোষণা দেন তারা। আজ মঙ্গলবার অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

আজ কর্মসূচি অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন তারা। এ সময় তারা দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

advertisement

তাদের দাবিগুলো হলো, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন রেজিস্ট্রার নিয়োগ, কর্মচারীদের সমিতির অনুমোদন প্রদান, আগামী ৭ দিনের মধ্যে মাস্টাররোল ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তার-কর্মচারীদের স্থায়ী করা, স্থায়ীদের পদোন্নতি দেওয়া, ১ মাসের মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নয়ন নীতিমালা সংশোধন করা, আপগ্রেডেশনসহ টেকনিক্যাল / নন-টেকনিক্যাল পদে নীতিমালা সংশোধন করা, আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্মচারী নিয়োগ বোর্ডে ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণ এবং বিভিন্ন কমিটিতে কর্মকর্তাদের দিয়ে কমিটি পুনর্গঠন করা, সহকারী রেজিস্ট্রার/ সমমান ৭ম গ্রেড হতে ৬ষ্ঠ গ্রেড এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার/ সমমান ৫ম গ্রেড হতে ৪র্থ গ্রেডের অফিস বাস্তবায়ন করা, প্রসাশনের বৈষম্যমূলক আচরণ ও দ্বৈতনীতি বন্ধ করা।

তবে কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে জরুরি সার্ভিস, ক্লাস পরীক্ষার সহায়তাকারী এবং লাইব্রেরি রিডিং কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।

advertisement

এ বিষয়ে একজন নারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আজকে আমাদের অফিসে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা যদি ঐরকম পরিস্থিতির সম্মুখীন না হতাম তাহলে আজকে কর্মবিরতি দিয়ে আমাদের এখানে অবস্থান নেওয়ার কথা ছিল না। মাতৃত্বজনিত কারণ নিয়ে উনার কাছে গেলে রেজিস্ট্রার সাহেব আমাদেরকে ধমক দিয়ে কথা বলেছেন। আমার এক কলিগ ও এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তিনি আমাদেরকে অনেক সময় হেনস্তার চেষ্টা করেন। আমরা যেনো নারী হিসেবে বৈষম্যের শিকার না হই এমন সুন্দর কর্মক্ষেত্র চাই।’

এ বিষয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন পলাশ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা একটি পরিবার কিন্ত দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিভিন্ন বৈষম্যের শিকার হচ্ছি। বিশেষ করে বর্তমান রেজিস্টারের উপর আমরা খুবই তিক্ত। তিনি আমাদের দাবি সর্বশেষ রিজেন্ট বোর্ডে সঠিকভাবে পেশ করেননি। আমরা আমাদের দাবি নিয়ে উপাচার্যর কাছে গিয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু আমরা আজকে বাধ্য হয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা চাই আগামী ৩ দিনের মধ্যে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হোক।’

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবি আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মকর্তা কর্মচারীরা বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। সর্বশেষ রিজেন্ট বোর্ডে ও আমাদের দাবি অনুমোদিত হয়নি। এ জন্য কর্মবিরতি দিয়ে আমাদের ৮টি দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আজকের এ কর্মসূচি। এ দাবিগুলো না মেনে আমাদের কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. মো. দিদার আলম বলেন, ‘আন্দোলনের বিষয়ে আমরা কর্মকর্তা কর্মচারীদের সঙ্গে বসে খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত জানাব।’