advertisement
advertisement
advertisement.

৭৪ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই

গজারিয়া

মোয়াজ্জেম হোসেন জুয়েল, গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ)
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ১২:০০ এএম | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ০১:২৪ এএম
advertisement..

গজারিয়া উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ৮৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও তার মধ্যে ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজও নির্মাণ হয়নি শহীদ মিনার। প্রতি বছর কলাগাছ, বাঁশের কঞ্চি ও সাদা কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ করে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ২১ ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস পালন করে আসছে।

এতে শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষার সঠিক তাৎপর্য, জানাতে পারছে না ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা। এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষকরা।

advertisement

উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৮৭টি। এর মধ্যে ১৩ নং সরকারি টেঙ্গার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭৮নং মনার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭নং ভবেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩নং মধ্য বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৪নং পুরান বাউশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৫৫নং ইমামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭২নং নতুন চরচাষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৯নং দত্তেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১নং ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১১নং তেতৈতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী শহীদ মিনার রয়েছে। বাকি ৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিনেও কোনো শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি।

৫৬নং ভিটিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না, জোবায়ের ও সুমাইয়া জানায়, প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, কিন্তু আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায়, আমরা সবাই মিলে প্রতি বছর কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার বানিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। আমরা চাই, সরকার প্রতিটি স্কুলে শহীদ মিনার নির্মাণ করে দেয়।

১০নং আড়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. রীনা বেগম জানান, আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনেও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। ফলে আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারি না। এ ব্যাপারে শহীদ মিনার নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে; বাকি ৭৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী জানান, এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হবে।